ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য এক লাখ টন ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের যে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, মে মাসে তা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য মাজেদা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এক লাখ টন ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে ১ হাজার ৭৫৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ডিজেল কেনার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।
এর আগে, গত ২১ এপ্রিল একই কমিটির বৈঠকে দেড় লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। এতে বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি অব্যাহত রাখার চেষ্টা করলেও দেশের পেট্রল পাম্পগুলোতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। সরকার প্রয়োজনে মে মাসে মূল্য সমন্বয়ের পরিকল্পনা করলেও তার আগেই গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়।
বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই মূল্য মে মাসে আরও না বাড়িয়ে অপরিবর্তিত রাখা হবে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, বৈঠকে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতেও কয়েকটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানি লিমিটেডের আওতায় শ্রীকাইল ডিপ-১ ও মোবারকপুর ডিপ-১ কূপ খনন প্রকল্প এবং সিলেট-১২ নম্বর কূপ খননসংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া বৈঠকে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার এবং দেশীয় উৎস থেকে ৯ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

