হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় ট্রাম্পের একের পর এক পোস্ট

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন।

এর মধ্যে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।

তার এসব পোস্ট ও বক্তব্যে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লেবানন, পারমাণবিক কর্মসূচি, ন্যাটো, আঞ্চলিক রাজনীতি, এমনকি গণমাধ্যমকে কটাক্ষ করার বিষয়ও উঠে আসে।

ইরানের হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ওপর প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। হরমুজ নিয়ে তার পোস্টে এটা স্পষ্ট যে, চুক্তি পুরোপুরি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রণালি খুলে দেওয়ার পরপরই ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পূর্ণ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। তবে ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন ১০০ শতাংশ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে। এই প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শেষ হওয়া উচিত, কারণ অধিকাংশ পয়েন্ট নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়ে গেছে।’

পরে তিনি আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘ইরান রাজি হয়েছে যে তারা আর কখনোই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করবে না। এটি আর কখনোই বিশ্বের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।’

একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ প্রসঙ্গেও পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যে সব সামুদ্রিক মাইন সরিয়ে ফেলেছে বা সরাচ্ছে ইরান।

যদিও তার এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ইরান এখনো কিছু জানায়নি।

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা স্পষ্ট হয় রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।

তিনি একে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বা পারমাণবিক ধূলিকণা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের সাথে মিলে কাজ করব এবং খুব ধীরেসুস্থে বড় বড় যন্ত্রপাতি নিয়ে খনন শুরু করব। আমরা সেই ইউরেনিয়াম বা ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনব। খুব শিগগির এগুলো উদ্ধার করা হবে।’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এই চুক্তিতে কোনো অর্থের লেনদেন হবে না।

এ বিষয়ে পোস্টে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই সব পারমাণবিক ‘ধূলিকণা’ নিয়ে আসবে। কোনোভাবেই কোনো প্রকার অর্থের লেনদেন হবে না।’

 

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির সঙ্গে লেবানন পরিস্থিতিকে মেলাতে রাজি নন ট্রাম্প। ইসরায়েলকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই চুক্তি কোনোভাবেই লেবাননের ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে লেবানন ও হিজবুল্লাহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। ইসরায়েল আর লেবাননে বোমা হামলা করবে না। যুক্তরাষ্ট্র তাদের এটা করতে নিষিদ্ধ করেছে। যথেষ্ট হয়েছে।’

হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে সাহায্যকারী দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি লিখেছেন, ‘সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারকে তাদের সাহসিকতা ও সাহায্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।’

বিশেষভাবে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান এবং তাদের মহান প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালকে ধন্যবাদ, দুজনই অসামান্য মানুষ।’

 

হরমুজ প্রণালি খোলার পর পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো সাহায্যের প্রস্তাব দিলে রীতিমত খেপে যান ট্রাম্প।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘হরমুজ পরিস্থিতি ঠিক হওয়ার পর ন্যাটো আমাকে ফোন করে জানতে চেয়েছিল কোনো সাহায্যের প্রয়োজন আছে কি না। আমি তাদের বলেছি দূরে থাকতে, যদি না তারা শুধু তাদের জাহাজগুলোতে তেল ভরতে চায়। প্রয়োজনের সময় তারা ছিল ‘কাগুজে বাঘ’।’

একইভাবে মার্কিন মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে পোস্টে লিখেছেন, ‘ব্যর্থ নিউইয়র্ক টাইমস, ফেক নিউজ সিএনএন এখন কী করবে বুঝতে পারছে না। তারা মরিয়া হয়ে আমাকে সমালোচনা করার সুযোগ খুঁজছে, কিন্তু পাচ্ছে না। তারা কেন বলে দিচ্ছে না—জব ওয়েল ডান, মি. প্রেসিডেন্ট।’

ট্রাম্পের এসব পোস্ট ও বক্তব্য থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে চান ট্রাম্প। এছাড়া হরমুজ খুলে দেওয়াকেও বিশাল কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন তিনি।

Related Articles

Latest Posts