মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইরানের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তেহরান জানিয়েছিল, প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে এক সপ্তাহের মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান দ্রুত প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য চুক্তি করতে চাইছে, কারণ তারা ‘খুব খারাপভাবে হারছে’।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায় এবং আমার মনে হয় সেটা ভালো। আমিও চুক্তি করতে পছন্দ করি।’
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে নিউইয়র্ক থেকে তেহরানে ফেরার পথে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসূদ পেজেশকিয়ান মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেন, প্রস্তাবটি সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সমন্বয় করে তৈরি করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, পরিকল্পনাটিতে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের প্রস্তাব রয়েছে। তিনি চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
আরাঘচির ভাষ্য, চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারকে যে শর্তগুলো ছিল, নতুন পরিকল্পনাতেও সেগুলোই রাখা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় করা, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধ করা।
যুদ্ধবিরতির সপ্তম দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। পেজেশকিয়ান সিবিএসকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব গ্রহণ করার দিন থেকেই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকের পর পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান আলোচনার টেবিল থেকে সরে যায়নি। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের আর আস্থা নেই।
আরাঘচি জাতিসংঘে বলেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান একটি সুনির্দিষ্ট সাত দিনের পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব।

