প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মিশন আচার্য। কিন্তু নিজেদের জমি বা স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় পুলিশ ভেরিফিকেশনে তার নিয়োগ আটকে যায়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তার নিয়োগের জটিলতা কাটছে।
আজ রোববার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন তার নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে (ডিপিও) এই নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনের সহযোগিতায় আজ মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মিশন আচার্য। রাশেদ জানান, পত্রিকায় সংবাদ দেখে সকালে তিনি মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দেন। এরপর শিক্ষামন্ত্রী ফোন করে তার নিয়োগে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মিশন আচার্যের (৩১) বসবাস ঝিনাইদহ শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাগান এলাকায়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি। তার ও পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কলাবাগানের নাম আছে। কিন্তু সেখানে তাদের নিজেদের জমি বা বাড়ি নেই। ওই এলাকায় প্রায় ৪৫ বছর ধরে ভাড়া বাড়িতে থাকে তার পরিবার। কিন্তু নিজস্ব ঘরবাড়ি না থাকায় তার নিয়োগ স্থগিত ছিল।
মিশন আচার্যের মা ময়না আচার্য (৬২) গত বুধবার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ছোট ছেলে গর্ভে থাকা অবস্থায় স্বামী ছেড়ে চলে যায়। মানুষের বাড়িতে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচারিকার কাজ করে দুই সন্তানকে বড় করেছি। ছোট ছেলেকে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া শিখিয়েছি। কিন্তু নিজের বাড়ি নেই বলে ছেলে সরকারি চাকরির লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় টিকেও বাদ পড়ে যায়। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানে ৪৫ বছরের বেশি সময় বসবাস করলেও স্থায়ী বাসিন্দা হতে পারিনি।’
বড় ছেলে শৈলেন আচার্য কলাবাগান চৌরাস্তা মোড়ে পুরোনো কাপড়ের ব্যবসা করে ৭ জনের সংসার চালাচ্ছেন।
ময়না জানান, তার বাবার বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাগজি পাড়া গ্রামে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের কয়েক বছর পর তারা পুরো পরিবার ঝিনাইদহ শহরে এসে ভাড়াবাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
মা ময়না আচার্য বলেন, ‘মিশন এর আগে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদেও লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় টিকেছিলেন। কিন্তু সেবারও সে বাদ পড়ে।’
মিশন আচার্যের নিয়োগ নিয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ ডিপিও (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমজাদ হোসেন আজ বিকেলে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীও এই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন।

