কুমিল্লায় স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া।
শনিবার জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মমিনুল হক এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
আদালত পরিদর্শক সাদেকুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জবানবন্দি নেওয়ার পর আসামিকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।’
এর আগে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ‘সপ্তম শ্রেণির ওই স্কুলশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছেন সুমন মিয়া। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর আইফোন উদ্ধার করা হয়।’
সুমনের দেওয়া তথ্যের বরাতে পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার থেকে রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকায় সিএনজিটি ভাড়া করেছিলেন ওই শিক্ষার্থী। অল্প সময়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে জগতপুর গ্রামে যায় সুমন।
‘মেয়েটি তখন আতঙ্কিত হয়ে পালানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধর্ষণ এবং পরে মাথা কাদার মধ্যে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন সুমন,’ বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
তিনি আরও জানান, এরপর ওই শিক্ষার্থীর ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন সুমন। পরে চাপাপুরের কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরের পাশে আইফোনটি লুকিয়ে চট্টগ্রাম পালিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার সকালে সড়কের পাশে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে লালমাই থানার পুলিশ কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ধানখেত থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত করেন নিহত কিশোরীর বাবা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় ওই কিশোরী। পরে সে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার যায়। বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল কিশোরীটি।

