সেমিফাইনালিস্টদের ভ্রমণসূচি: সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ ইংল্যান্ডের, কম ফ্রান্সের

সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয়ের পর বিশ্বকাপের কোন দিকটি অপছন্দের, এমন প্রশ্নের জবাবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন ভ্রমণসূচির কথা। কিছুটা মজা করে এটাও বলেছিলেন, আর্জেন্টিনা গ্রুপে দ্বিতীয় হলে এতদিনে তাদের পুরো যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করা হয়ে যেতো। 

বাস্তবতা হলো, বিশ্বকাপের চার সেমিফাইনালিস্টের মধ্যে ভ্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে সুবিধা পেয়েছে ফ্রান্স। আর এদিক থেকে নিজেদের সবচেয়ে দুর্ভাগা ভাবতে পারে ইংল্যান্ড। ফ্রান্সের চেয়ে প্রায় সাড়ে তিনগুণ বেশি ভ্রমণ করতে হয়েছে থ্রি লায়ন্সদের। আর্জেন্টিনার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্পোর্টস নেটওয়ার্ক টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দেয়া হয়েছে। 

ফ্রান্স: ৫,৫০০ কিলোমিটার 

বেশিরভাগ দলকেই যেখানে এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে বিশাল দূরত্ব পেরোতে হয়েছে, ফ্রান্স সেখানে এদিক থেকে অনেকটাই সুবিধা পেয়েছে। দিদিয়ের দেশমের দল তাদের বেসক্যাম্প করেছিল ম্যাসাচুসেটসের ওয়াল্টহামে, যেখান থেকে বাসে বোস্টন শহরের দূরত্ব মাত্র ২৫ মিনিট। বোস্টন থেকে যাতায়াত করার জন্য কোনো ম্যাচেই ফ্রান্সকে ৪৩৫ কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণ করতে হয়নি। 

আরেকটি বড় সুবিধা ফ্রান্স পেয়েছে ভেন্যুর দিক থেকেও। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ তারা খেলেছে নিউজার্সি, ফিলাডেলফিয়া ও বোস্টনে। এরপর রাউন্ড অব ৩২, শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচও তারা খেলেছে হুবহু এই তিনটি ভেন্যুতেই। এতে করে তাদের ভ্রমণের ধকল কমে গেছে অনেকটাই। সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে তাদের খেলতে হবে ডালাসে, যেটা এই বিশ্বকাপে তাদের জন্য সবচেয়ে দূরবর্তী ভেন্যু। সব মিলিয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত ফ্রান্সকে ভ্রমণ করতে হয়েছে মোট ৫,৫০০ কিলোমিটার। 

আর্জেন্টিনা: ৮,০২৫ কিলোমিটার 

ফ্রান্সের চেয়ে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার বেশি ভ্রমণ করতে হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলকে। এমনকি ভ্রমণ ধকল কমাতে টুর্নামেন্টের মাঝপথে একবার বেসক্যাম্প বদলও করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। 

শুরুতে আর্জেন্টিনার বেসক্যাম্প ছিল কানসাস সিটিতে। রাউন্ড অব ৩২ এর ম্যাচের জন্য তারা বেসক্যাম্প স্থানান্তর করে মায়ামিতে। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে আবার তারা কানসাসে ফেরত আসে। 

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচ তারা খেলেছে কানসাস সিটিতে। সেখান থেকে ডালাসে গেছে গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচ খেলতে। গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলতে যেতে হয়েছে মায়ামিতে, যেখানে তারা মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামির ট্রেনিং সেন্টারের সুবিধা পেয়েছে। সেখান থেকে মিশরের সাথে খেলার জন্য যেতে হয়েছে আটলান্টায়। 

এরপর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে আবার কানসাস সিটিতে ফেরত এসেছেন মেসিরা। সেই ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল নিশ্চিত করায় আবার তাদের যেতে হচ্ছে আটলান্টায়।

সব মিলে মেসির দল এই বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত ভ্রমণ করেছে ৮,০২৫ কিলোমিটার।

স্পেন: ১৪,২০০ কিলোমিটার 

বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নরা তাদের বেসক্যাম্প স্থাপন করেছিল টেনেসিতে। সেখান থেকে দুটি ম্যাচ খেলতে তাদের আসতে হয়েছে আটলান্টায় (কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে)। আর গ্রুপের শেষ ম্যাচের জন্য তাদের যেতে হয়েছে আরেক স্বাগতিক দেশ মেক্সিকোর গুয়াদালাজারায়।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২ এর ম্যাচের জন্য তারা আবার ফেরত এসেছে লস অ্যাঞ্জেলেসে। পর্তুগাল ম্যাচের জন্য ডালাসে গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে আবার আসতে হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসে। 

সেমিফাইনালে ডালাস আসার দূরত্ব সহ এই বিশ্বকাপে লা রোহাদের এখন পর্যন্ত ভ্রমণ করতে হয়েছে ১৪,২০০ কিলোমিটার। 

ইংল্যান্ড: ২০,৬০০ কিলোমিটার 

চার সেমিফাইনালিস্টের মধ্যে ভ্রমণক্লান্তি সবচেয়ে বেশি থাকবে ইংলিশদের। আর্জেন্টিনার মতো ইংল্যান্ডও বেসক্যাম্প করেছিলো কানসাস সিটিতেই, যদিও এই শহরে ইংল্যান্ডের কোনো ম্যাচই ছিল না। সেমিফাইনাল সহ সাতটি ম্যাচ খেলার জন্য তাদের কানসাস থেকে ভ্রমণ করতে হয়েছে ডালাস, বোস্টন, নিউজার্সি, আটলান্টা, মেক্সিকো সিটি ও মায়ামিতে। ম্যাচ খেলে আবার ফিরতে হয়েছে বেসক্যাম্প কানসাসে। যে কারণে বাকি তিন দলের তুলনায় হ্যারি কেইনদের আকাশপথে অনেকটা বেশি সময় কাটাতে হয়েছে।  

সব মিলে ইংল্যান্ড দল সেমিফাইনাল পর্যন্ত ভ্রমণ করেছে ২০,৬০০ কিলোমিটার, ফ্রান্সের চেয়ে যা প্রায় সাড়ে তিনগুণ বেশি দূরত্ব। 

Related Articles

Latest Posts