সংশোধন হচ্ছে বিটিভি ডিজি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগের প্রজ্ঞাপন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে ডিজি হিসেবে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব কাজী জেসিনই থাকছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, নতুন ডিজি নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে আইনি ভুল হয়েছে, সেটি সংশোধন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আজ রোববার বিটিভির ডিজি নিয়োগের আইনি প্রক্রিয়ায় ভুল নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করা হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীও আজ বিকেলে ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বিটিভিতে সরকার যোগ্যতাসম্পন্ন যে কাউকে ডিজি হিসেবে নিয়োগ দিতে পারে। কিন্তু এবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইনগত ভুল হয়েছে, এটা সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে। দ্রুতই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাদের (ডেইলি স্টারের) প্রতিবেদনে ঠিকই তুলে ধরেছেন। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। আজ প্রজ্ঞাপন হয়ে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন-২০০১’ অনুযায়ী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব কাজী জেসিনকে বিটিভির ডিজি নিয়োগ দেওয়া হলে এ নিয়োগের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা আইনটি আদৌ কার্যকর আছে কি না, সেই তথ্য দিতে পারেনি তথ্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এদিকে, বিটিভির ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানটির রুলস-রেগুলেশনের অন্তত ২২ দলিল থাকলেও ‘টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ আইন-২০০১’ এর তথ্য সেখানে নেই।

দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বিটিভির স্বায়ত্তশাসনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হলেও এটি কার্যকরের ক্ষেত্রে সরকার গেজেট নোটিফিকেশন জারি করবে বলে সেই আইনেই উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনটিতে বলা বলা হয়েছে, ‘সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবৎ হইবে।’

কিন্তু গত ২৫ বছরে আইনটি বলবৎ করতে কোনো সরকারই প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। অর্থাৎ আইনটি জাতীয় সংসদে পাস হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। আর এই আইনের রেফারেন্স দিয়েই নতুন ডিজি নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি উইংয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে বলেন, দপ্তর সংস্থার প্রধানের পদে নিয়োগ দিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হয়। তবে প্রজ্ঞাপন সংশোধন করতে নতুন করে অনুমোদন নিতে হবে না। ব্যক্তি পরিবর্তন না হওয়ায় একই স্মারকে নতুন প্রজ্ঞাপন প্রতিস্থাপিত হবে।

 

Related Articles

Latest Posts