শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। আজ বুধবার পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এলে বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনভর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর সংসদে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে সোমবার ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে অনুষ্ঠিত তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা নতুন করে নেওয়া যায় কি না, সরকার তা বিবেচনা করছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরও আজ পরীক্ষা শেষে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা।
উত্তরা ও সায়েন্স ল্যাবে বিক্ষোভ
আজ দুপুরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উত্তরার বিএনএস সেন্টারের কাছে জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, ‘একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তা দখল করে নিলে যান চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হয়।’
শিক্ষার্থীদের এই অবরোধের কারণে বিএনএস সেন্টার, আজমপুর, জসীমউদ্দীন ও এর আশপাশের সড়কগুলোয় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে বাস ও অন্যান্য যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা, নতুন রুটিন বা সূচি প্রকাশ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের তিন দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করবেন।
তাদের অভিযোগ, ভারী বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে গত সোমবার বন্যা ও জলাবদ্ধ এলাকার অনেক পরীক্ষার্থীই সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি, যা তাদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান শেষে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাদের দাবি মানা না হলে এবং বুধবারের পরীক্ষা বাতিল করা না হলে তারা পরীক্ষা শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লংমার্চ’ করবেন।
এদিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়েও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থল থেকে দ্য ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
সায়েন্স ল্যাব এলাকা থেকে দ্য ডেইলি স্টারের আলোকচিত্রী জানান, আড়াইটার দিকে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়ে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর রোড ও ধানমন্ডি এলাকায় যানজট দেখা যায়। বিকেল ৩টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষা শেষে মিছিল
দুপুর দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যার দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শেষে তারা চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে ইউনিফর্ম (কলেজের নির্ধারিত পোশাক) পরেই তারা মিছিলে অংশ নেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পরীক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন তাদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে মন্তব্য করে গর্হিত কাজ করেছেন। তাই তারা তাকে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখতে চান না।
সরকারি তোলারাম কলেজের পরীক্ষার্থী সাব্বির আল রাজ বলেন, ‘আমাদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন না। আপনি আমাদের ফার্মের মুরগি বলেছেন। শিক্ষার্থীদের তাচ্ছিল্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ধরনের শিক্ষামন্ত্রী আমরা চাই না।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে। পরে তারা সড়ক ছেড়ে মিছিল করে চলে যান।
সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ
একই দাবিতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর সোয়া ১টার দিকে মহাসড়কের পাকিজা মোড় (শহীদ ইয়ামিন চত্বর) এলাকায় অবরোধ করেন সাভার সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
অবরোধ তুলে নিতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে পুলিশ। পুলিশের অনুরোধে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল করতে দেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ২টায় আবারও সড়ক অবরোধ করেন তারা।
এ সময় এক শিক্ষার্থী উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘গতকালও আমরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছি, আজও করছি। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে আমাদের কর্মসূচি চলবে।’
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাওগাতুল আলম বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছিল, পরে তা ছেড়ে দিয়েছে। তারা আবারও সড়ক অবরোধ করেছে কি না, খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।’

