লাখো ডলার জরিমানা দিয়ে দুর্নীতির মামলায় দায়মুক্তি পেলেন আদানি

ভারতের ধনকুবের ও শিল্পপতি গৌতম আদানি যুক্তরাষ্ট্রের দায়রা আদালতে লাখো ডলার জরিমানা দিতে রাজি হয়েছেন। এই জরিমানা পরিশোধের বিপরীতে তার বিরুদ্ধে আনা সকল দুর্নীতির মামলা থেকে দায়মুক্তি পাবেন আদানি। 

এ ক্ষেত্রে তাকে কোনো ধরনের দোষ স্বীকার করতে হচ্ছে না। 

আজ শুক্রবার আদানির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

২০২৪ সালে আদানির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের আদালতে অভিযোগ আনা হয়। ওই অভিযোগ মতে, একটি সুবিস্তৃত ঘুষ-চক্রান্তের অংশ ছিলেন আদানি ও তার একাধিক অধস্তন কর্মচারী। 

তারা জেনেবুঝে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ভুল পথে পরিচালিত করেছেন। 

মার্কিন কৌসুলিদের দাবি, সৌর প্রযুক্তি সরবরাহের চুক্তি পেতে আদানি ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেন। 

আদানি গ্রিন এনার্জি জানিয়েছে, গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানি ‘দায়রা আদালতে জরিমানা’ পরিশোধ করতে সম্মতি দিয়েছেন, যার মোট মূল্যমান ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

দায়রা আদালতে দেওয়া অভিযোগের বিপরীতে তাদেরকে কোনো ধরনের স্বীকারোক্তি বা অসম্মতি সূচক বক্তব্য দিতে হয়নি বলেও আদানি গ্রিন এনার্জির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। 

মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জে এই চিঠি পাঠায় আদানির প্রতিষ্ঠানটি। 

গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শিগগির আদানির বিরুদ্ধে সব ধরনের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে যাচ্ছেন মার্কিন কৌসুলিরা। 

এই ঘটনার পরেই এলো এই জরিমানার খবর। 

চিঠিতে বলা হয়, এখনো মার্কিন আদালত এসব অভিযোগের বিপরীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। 

প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, এই বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও আনা হয়নি। 

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে আনা অভিযোগ থেকে দায়মুক্তির বিষয়টি সম্প্রতি সামনে এসেছে। 

মূলত, নতুন আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়ার পরই এই সুখবর পেয়েছেন আদানি। 

আদানির নতুন আইনজীবীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রবার্ট জিউফরা। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীদের অন্যতম। 

বছরের পর বছর কয়লা, বিমানবন্দর, সিমেন্ট ও গণমাধ্যম খাতে আধিপত্য স্থাপনের পর সাম্প্রতিক সময়ে আদানির বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 

আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানির বিরুদ্ধে কর্পোরেট প্রতারণা ও পুঁজিবাজারে কারসাজির বড় বড় অভিযোগ এসেছে। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আদানি। 

গুজরাটের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে আহমেদাবাদে জন্ম নেন আদানি। ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে দেন তিনি। 

মুম্বাইয়ের মূল্যবান পাথর শিল্পে কাজ খোঁজার চেষ্টা করেন তিনি। 

ভাইয়ের প্লাস্টিক ব্যবসায় কিছুদিন কাজ করার পর ১৯৮৮ সালে নিজের নামে রপ্তানি ব্যবসা শুরু করেন তিনি। 

সাত বছর পর গুজরাটে একটি বাণিজ্যিক বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার ঠিকাদারি কাজ পান তিনি। এতেই কপাল খুলে যায় গৌতম আদানির। 

এরপর আর তাকে পিছে তাকাতে হয়নি।

Related Articles

Latest Posts