চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার ফাইনালে মঙ্গলবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ। ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে বায়ার্ন বর্তমানে উড়ছে, সঙ্গে যোগ হয়েছে হ্যারি কেনের ফেরার সুখবর।
চলতি মৌসুমে ইউরোপের সবচেয়ে ব্যালেন্সড দল হিসেবে ধরা হচ্ছে বায়ার্নকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ১০ ম্যাচে তারা গোল করেছে ৩২টি। এই আক্রমণের মূল ভরসা হ্যারি কেন, যিনি ৪০ ম্যাচে করেছেন ৪৮ গোল। বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৩৪ ম্যাচে তার গোল ২৯টি।
অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের এই মৌসুমটা ওঠা-নামার মধ্য দিয়ে গেলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তারা সবসময়ই ভয়ংকর। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে বিদায় করে তারা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
ইতিহাস বলছে, কোয়ার্টার ফাইনালের পরিসংখ্যানে রিয়াল বেশ এগিয়ে। বায়ার্ন ২৪ বার এই ধাপে উঠলেও ১০ বারই বাদ পড়েছে। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও ফেদেরিকো ভালভার্দের বিপক্ষে বায়ার্নের জমাট রক্ষণ ও হাই-প্রেসিং ফুটবল তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখছে। মাইকেল অলিস ও লুইস দিয়াজদের নিয়ে গড়া বায়ার্ন গত রাউন্ডে আতালান্তাকে ১০-২ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে।
তবে বায়ার্নের দুশ্চিন্তার কারণ হলো রিয়ালের সঙ্গে তাদের অতীত রেকর্ড। ২০১২ সালের পর নকআউট পর্বে রিয়ালকে হারাতে পারেনি তারা। শেষ চারবার রিয়াল যখনই বায়ার্নকে হারিয়েছে, সেবারই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ম্যাচে গোলরক্ষকের ভুল বা শেষ মুহূর্তের গোলগুলো এখনো বায়ার্ন সমর্থকদের মনে ক্ষত হয়ে আছে।
মঙ্গলবার দল দুটির ২৯তম লড়াই হতে যাচ্ছে, যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে রেকর্ড। ফর্মের বিচারে বায়ার্ন ফেভারিট হলেও রিয়ালের সঙ্গে ইতিহাস সবসময় অন্য কথা বলে।
রাতের অন্য ম্যাচে পর্তুগিজ ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনের মুখোমুখি হবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল। টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য মিকেল আরতেতার দলের। পরিসংখ্যানে আর্সেনাল এগিয়ে থাকলেও ২০২৩ সালে এই স্পোর্টিংয়ের কাছে হেরেই ইউরোপা লিগ থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। সবার চোখ থাকবে স্পোর্টিংয়ের তারকা ভিক্টর গায়োকেরেসের দিকে, যিনি নিজের সাবেক ক্লাবের সঙ্গে লড়াইয়ে জ্বলে উঠতে মরিয়া।

