হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দাপুটে জয়ের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে রাফিনিয়ার চোটে। ফিলাডেলফিয়ায় প্রথমার্ধের শেষদিকে ডান পায়ের উরুর পেশিতে চোট নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। স্বভাবতই ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছে— রাফিনিয়ার চোট কি গুরুতর? তিনি কি তবে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেলেন?
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) অবশ্য আশার বাণীই শুনিয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, স্ক্যানে ২৯ বছর বয়সী এই তারকার ডান উরুর পেছনের পেশিতে (হ্যামস্ট্রিং) চোট ধরা পড়েছে। তবে তার পরিস্থিতি এতটা গুরুতর নয় যে তাকে ডিফেন্ডার ওয়েসলির মতো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যেতে হবে।
সেখানে আরও বলা হয়েছে, রাফিনিয়া দলের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন এবং যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফেরার লক্ষ্যে নিবিড় চিকিৎসা প্রটোকলের মধ্য দিয়ে যাবেন। এছাড়া, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালীন তার মাঠে ফেরার ব্যাপারে সেলেসাওরা বেশ আশাবাদী।
গত এক বছরের মধ্যে এটি রাফিনিয়ার চতুর্থ হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট। বারবার চোটে পড়ার কারণে গত মৌসুমে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৩টি ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। সবশেষ গত মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে চোট পেয়ে এক মাসের বেশি সময় মাঠের বাইরে ছিলেন।
সতীর্থের এমন চোটে মন খারাপ রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতারও। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘সে কিছুটা হতাশ। আমরা আশা করছি, চোট খুব বেশি গুরুতর নয়, অন্তত সবচেয়ে খারাপ কিছু যেন না হয়। কারণ সে আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় এবং আমরা তার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।’
চোট পাওয়া রাফিনিয়া হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের ৪০তম মিনিটে মাঠ ছেড়ে যান। তার বদলি হিসেবে নামেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ উইঙ্গার রায়ান।
২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা কাটিয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানে একের পর এক চোটে জর্জরিত কোচ কার্লো আনচেলত্তির দল। রাফিনিয়ার চোট সেই তালিকায় সবশেষ সংযোজন মাত্র। এর আগে গত মার্চে গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যান রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড রদ্রিগো। পরের মাসে প্রিমিয়ার লিগে চেলসির হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে যায় উদীয়মান তারকা এস্তেভাওয়ের। এছাড়া, একই চোটের কারণে রিয়ালের ডিফেন্ডার এদার মিলিতাও খেলতে পারছেন না বিশ্বমঞ্চে।
এত দুঃসংবাদের মাঝেও ব্রাজিলের জন্য বড় স্বস্তির খবর হলো তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের ফেরা। পায়ের নিচের অংশের পেছনের দিকের মাংসপেশির চোট থেকে সেরে উঠেছেন তিনি। ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা নেইমার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও হাইতিকে উড়িয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল। ফলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে তারা। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে আছে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছে স্কটল্যান্ড। আর টানা দুই হারে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে হাইতির।

