যুক্তরাষ্ট্রে প্রজনন হার এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে

যুক্তরাষ্ট্রে প্রজনন হার এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ২০০৭ সাল থেকে এই হারে অব্যাহত পতন দেশছে দেশটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে এই খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি এক হাজার নারীর (১৫ থেকে ৪৪ বছর) মধ্যে গড়ে ৫৩ দশমিক ১টি শিশুর জন্ম হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ কম।

বিশেষজ্ঞরা এই পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন কারণকে দায়ী করছেন। এর মধ্যে যেমন রয়েছে তরুণীদের জীবনযাত্রার অগ্রাধিকার বদলে যাওয়া, তেমনি রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং আবাসন ও শিশু লালন-পালনের খরচ মেটানোর সক্ষমতার মতো আর্থ-সামাজিক বিষয়গুলো।

অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউটের মতে, ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে শিশু লালনপালনের খরচ গড় খরচ বছরে প্রায় ২২ হাজার ডলার। অন্যদিকে, আলাবামার মতো অপেক্ষাকৃত কম জীবনযাত্রার ব্যয়ের রাজ্যগুলোতে এই খরচ প্রায় ৮ হাজার ডলার।

যদিও আলাবামায় খরচ তুলনামূলক কম, তবে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে যে, সেই অঙ্গরাজ্যে নূন্যতম মজুরিতে কাজ করা একজন শ্রমিক টানা ২৭ সপ্তাহ পূর্ণকালীন কাজ করে ৮ হাজার ডলার উপার্জন করতে পারেন।

আর ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষেত্রে একজন নূন্যতম মজুরির শ্রমিকের শুধুমাত্র শিশু লালনপালনের খরচ জোগাড় করতেই ৩৩ সপ্তাহ সময় লেগে যাবে।

ওয়েলেসলি কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক ফিলিপ লেভিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, কর্মক্ষেত্রে আরও ভালো ও প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ, বিনোদনের বিস্তৃত পরিধি এবং সন্তান লালন-পালনের ক্রমবর্ধমান চাপ—এই বিষয়গুলোর কারণে মানুষ এখন সন্তান নেওয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

প্রজনন হারের এই পতন নীতিনির্ধারকদেরও নজর কেড়েছে। তরুণ দম্পতিদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে তাদের কেউ কেউ এখন বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা দেওয়ার কথা ভাবছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জন্মদান-বান্ধব নীতি নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত বছর তারা আইভিএফ চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর নতুন নির্দেশনা জারি করে।

তবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশযোগ্যতা ব্যাপকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০২৭ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব পেশ করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক খাতে ব্যয় কাটছাঁটের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সামরিক খাতের জন্য প্রস্তাবিত দেড় ট্রিলিয়ন ডলার বরাদ্দের পক্ষেই সাফাই দেন।

তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) কর্মসূচিগুলোর দায়িত্ব বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত, যদিও প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের সম্পদ ও সক্ষমতা এক নয়।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার দিবাযত্ন কেন্দ্র বা ডে-কেয়ারের দায়িত্ব নিতে পারে না। এটি অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ছেড়ে দিতে হবে। আমরা ডে-কেয়ার সামলাতে পারব না। আমাদের দেশ অনেক বড়।

পশ্চিমা দেশগুলোতে জন্মহার কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকরাও বেশ চিন্তিত। তারা এই তথ্যকে ব্যবহার করে এমন একটি ধারণা প্রচার করছেন যে বাইরের দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা ভবিষ্যতে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যাগরিষ্ঠদের স্থান দখল করে নিতে পারেন।

Related Articles

Latest Posts