লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের শেষটা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকার জন্য এটিই হয়তো আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ বিশ্বকাপ। তবে বিদায়ের দিন গোনার বদলে সমর্থকদের প্রতি ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ রদ্রিগো দে পল। তার মতে, মেসির প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে দে পল বলেন, মেসিকে ছাড়া ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই ভাবার কোনো প্রয়োজন নেই। বিশ্বকাপে ষষ্ঠবার খেলতে নেমে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। তিন ম্যাচে ছয় গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে করেছিলেন হ্যাটট্রিক।
সংবাদ সম্মেলনে দে পল বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লিও মেসিকে প্রতিদিন উপভোগ করা। ঠিক যেমনটা প্রতিটি আর্জেন্টাইন করে। আমরা সাধারণত কোনো কিছু হারিয়ে ফেলার পরই তার মূল্য বেশি বুঝতে পারি। জীবন এমনই। কিন্তু এখন তো সে আমাদের সঙ্গে আছে, আর আমরা সবাই সেটাই উপভোগ করছি।’
মাঠে অধিনায়ককে সবসময় আগলে রাখার কারণে সমর্থকদের কাছে ‘মেসির দেহরক্ষী’ নামে পরিচিত দে পল গত বছর আতলেতিকো মাদ্রিদ ছেড়ে মেসির ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন।
মেসির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘লিওনেল মেসির ভালো বন্ধু হতে পারা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার। বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়গুলোর একটি। আমি নিজেকে খুবই সৌভাগ্যবান মনে করি। মাঠে ও মাঠের বাইরে তার সঙ্গে এত মুহূর্ত ভাগাভাগি করতে পেরেছি। এটি আমাকে সত্যিই গর্বিত করে।’
দে পল স্বীকার করেন, ড্র হওয়ার সময় তাদের ধারণা ছিল শেষ বত্রিশে হয়তো ইউরোপের সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেন অথবা উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’ থেকে রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠে এসেছে কেপ ভার্দে।
তিনি বলেন, ড্র হওয়ার সময় আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো কোনো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বা বড় বড় লিগে খেলা তারকাসমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। আমরা এমন একটি দলের মুখোমুখি হচ্ছি, যারা গ্রুপ পর্বে দারুণ খেলেছে। নিজেদের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তারা খুব ভালো পারফর্ম করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামীকালের ম্যাচে আমাদের খুব দায়িত্বশীল থাকতে হবে। কারণ এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ।’

