মেসির বিদায়ের আবেগের মধ্যেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে শেষ অনুশীলনটা সেরে ফেললেন নিকোলাস ওতামেন্দিও। মাঠে শেষবারের মতো নীল-সাদা জার্সিতে অনুশীলন, চারপাশে জমে থাকা পুরোনো স্মৃতি স্মরণ করে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শেষ অনুশীলনের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমার জীবনের বিশাল একটি অধ্যায় শেষ হচ্ছে।’
মেসির মতো ওতামেন্দিও বিশ্বকাপের পরই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে মেসির বিদায়ী ম্যাচকে সামনে রেখে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য বিশেষভাবে দলে ডাক পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে রিভার প্লেটের হয়ে খেলা এই ডিফেন্ডারের জন্য ইজেইজা ট্রেনিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত শেষ অনুশীলনটি ছিল জাতীয় দলের সঙ্গে তার শেষ দিন।
সেই মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন ওতামেন্দি। মেসি যে ছবিটি শেয়ার করেছিলেন, সেই একই ছবিতে পুরো দল, কোচিং স্টাফ ও আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছিলেন তিনিও, ‘আজ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে আমার শেষ অনুশীলন ছিল। যদিও চেষ্টা করেছিলাম অন্য যেকোনো দিনের মতোই এটাকে নিতে, কিন্তু প্রথম মুহূর্ত থেকেই জানতাম, আর কিছুই কখনো আগের মতো থাকবে না।’
এরপর স্মৃতির পাতায় ফিরে যান ৩৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার, ‘মাঠের দিকে তাকাতেই একের পর এক স্মৃতি ফিরে আসছিল। প্রথম পথচলা, কঠিন সময়, আনন্দ, কান্না, জয় এবং সেই পরাজয়গুলোও, যেগুলো আমাদের বারবার উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। মাঠের প্রতিটি কোণ যেন কোনো না কোনো গল্প ধরে রেখেছিল, প্রতিটি দৃষ্টি যেন বিদায়ের কথা বলছিল। প্রতিটি মুহূর্ত মনে করিয়ে দিচ্ছিল, এই রংগুলো গায়ে জড়িয়ে খেলাটা আমার কাছে কতটা অর্থবহ ছিল।’
জাতীয় দলের হয়ে খেলা তার কাছে যে শুধু স্বপ্নপূরণ নয়, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু, সেটিও স্পষ্ট করেছেন ওতামেন্দি, ‘তবে আমি এমন এক আবেগও সঙ্গে নিয়ে বিদায় নিচ্ছি, যেটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কারণ নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা শুধু একটি স্বপ্ন পূরণ ছিল না; এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি।’
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি, ‘ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা। প্রতিটি আলিঙ্গনের জন্য, প্রতিটি গানের জন্য, প্রতিটি পতাকার জন্য এবং প্রতিবার জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় আমাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য যে আমরা একা নই। আনন্দের মুহূর্তে আমাদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। যখন সবকিছু আমাদের পরিকল্পনামতো হয়নি, তখনও সমর্থন করে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’
এরপরই আসে বিদায়ের সবচেয়ে আবেগঘন উপলব্ধি। ওতামেন্দির ভাষায়, ‘আজ একটি অনুশীলন শেষ হচ্ছে, কিন্তু একই সঙ্গে আমার জীবনের বিশাল একটি অধ্যায়ও শেষ হচ্ছে। আমি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি এমন সব স্মৃতি, যেগুলো সারাজীবন আগলে রাখব। আর এমন এক গর্ব, যা কখনো মুছে যাবে না।’
এরপর মেসিকে উদ্দেশ্য করে তার বার্তাটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগের দিনকে সামনে রেখে ওতামেন্দি লিখেছেন, ‘আগামীকাল খুব বিশেষ একটি দিন। কারণ এটি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের দিন। তোমার গল্পের অংশ হতে পারাটা আমার জন্য ছিল গর্বের, ছোট্ট মানুষ।’
সবশেষে জাতীয় দলের উদ্দেশ্যে বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন ওতামেন্দি, ‘বিদায়, জাতীয় দল। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’

