মেঘনা গ্রুপের আইএফসির ঋণ আবেদন প্রাথমিকভাবে নাকচের পর বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

চারটি জাহাজ কিনতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) ৮০ মিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের (এমজিআই) আবেদন প্রাথমিকভাবে নাকচের পর পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, একই আবেদন প্রাথমিকভাবে নাকচ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণের অর্থ গ্রহণের জন্য মেঘনা গ্রুপের পক্ষে অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করেছিল বেসরকারি মধুমতি ব্যাংক।

আবেদনটি নাকচের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য ডেইলি স্টার। এর কয়েক ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আবেদনটি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বিনিময় হারের ঝুঁকির বিপরীতে সুরক্ষার অভাব এবং বড় ঋণগ্রহীতাদের বিদেশি ঋণদাতার দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কায় প্রথমে আবেদনের বিষয়ে আপত্তি দেওয়া হয়েছিল।

ডেপুটি গভর্নর আরও বলেন, ‘তবে, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পগ্রুপকে সহায়তা করতে এবং অভ্যন্তরীণ জাহাজের বহর বাড়ানোর সুবিধা করে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন তাদের প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।’

যোগাযোগ করা হলে এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের আবেদন পর্যালোচনা করছে এবং কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের প্রশ্নের জবাব দেওয়া হচ্ছে।’

এর আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে জানিয়েছিলেন, বিডার অধীনে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থাকলে বিডাই তাদের বৈদেশিক ঋণের প্রাথমিক অনুমোদন দেয়। আর কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীনে পরিচালিত হলে, তাদের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এনওসি নিতে হয়। এমজিআইয়ের এই কোম্পানি বেজার আওতাভুক্ত হওয়ায় এটির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।

তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ‘বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক থাকে। কারণ এ ধরনের ঋণ সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক ঋণ নেয় এবং তা পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তবে সেই ঋণের দায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রের ওপর এসে পড়তে পারে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ইকুইটি অংশীদারত্ব এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকে স্বাগত জানায়, কিন্তু বৈদেশিক ঋণকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। কারণ এগুলো বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। উৎপাদন দেশীয় বাজারের জন্য হলে এবং এ থেকে রপ্তানি আয় না এলে ঋণ পরিশোধের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ থাকে না। এ কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের প্রস্তাবগুলো নিবিড় পর্যালোচনা করে এবং সবসময় অনুমোদন দেয় না।’

মেঘনার গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এবং অন্যতম প্রধান ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান। এই ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নিজস্ব ১১০টিসহ মোট ১৪৫টি জাহাজ রয়েছে।

Related Articles

Latest Posts