মিরপুরে দেয়ালধসের ঘটনায় আরও এক নারীর মৃত্যু

মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে দেয়ালধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন হয়েছে। গতকাল রাতে আহত আরেক নারী মারা গেছেন।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিউটি বেগমের মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে তিনি সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দেয়াল ধসে পড়লে তিনি আহত হন।

ওসি হাফিজুর রহমান আরও বলেন, বিউটি বেগম ঘটনাস্থলের পাশেই একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়।

দেয়ালধসের ঘটনায় নিহত অপর দুজন হলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নাসিমা বেগম (৪৫) ও রিকশাচালক মো. ফিরোজ (৪১)।

দেয়ালধসের ঘটনার অল্প সময় পর নাসিমার পরিচয় জানা গেলেও নিহত পুরুষের পরিচয় শুরুতে পাওয়া যায়নি। পরে গতকাল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) গিয়ে তার স্ত্রী সাহিদা আক্তার মরদেহ শনাক্ত করেন।

সাহিদা জানান, ফিরোজের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলায়। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি রাজধানীর মিরপুর-১-এর নবাবেরবাগ এলাকার একটি টিনশেড বাসায় থাকতেন।

ফিরোজের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও একই গ্যারেজের রিকশাচালক শরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় প্রতিদিনই তিনি (ফিরোজ) মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনের রাস্তায় স্বেচ্ছাসেবীদের দেওয়া দুপুরের খাবার খেতে যেতেন। শরিফুলের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় ফিরোজ সেখানে দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলেন।

দেয়ালধসের ঘটনায় আহত আরও অন্তত পাঁচজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহতদের মধ্যে আছেন রাজিয়া বেগম (৪৫), মনোয়ারা খাতুন (৩৮) ও তার ছেলে মোশাররফ হোসেন (২০)।

মনোয়ারা ডান হাতে ও বুকের পাঁজরে আঘাত পেয়েছেন। তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়েছে। রাজিয়া মাথায় আঘাত পেয়েছেন এবং মোশাররফের ডান হাত ভেঙে গেছে। দুজনই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
 

Related Articles

Latest Posts