সরকারি অনুমোদন ছাড়াই মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর পল্টনের একটি ডায়গনস্টিক সেন্টার সিলগালা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ শুক্রবার বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ‘হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার’টি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়াগামী কর্মী নিয়োগের ‘ডিমান্ড লেটার’ সত্যায়ন শুরু হলেও নিয়োগের সুস্পষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করা হয়নি।
অথচ গত ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী এমন ১৪ জনের মেডিকেল টেস্ট করে রিপোর্টও দিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, একই ভবনে ‘হিউম্যান ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার’-এর সাইনবোর্ডের পাশাপাশি ‘সামিহা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই প্রতিষ্ঠানটিরও সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেয়।
বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, প্রতারণা ও অনুমোদনহীন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকার “জিরো টলারেন্স” নীতি নিয়েছে।’
‘মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রতারণার সুযোগ দেওয়া হবে না,’ বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান ভুয়া বা প্রতারণামূলকভাবে বিদেশগামীদের মেডিকেল রিপোর্ট দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার দিকে সরকার কয়েক ধাপ আগালেও, কবে থেকে কর্মী পাঠানো যাবে, নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে বা অভিবাসন ব্যয় কত হবে—সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
নতুন ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচিত ২৫টি মূল রিক্রুটিং এজেন্সির অন্যতম ‘গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড’-এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির জন্য ২৮ কর্মীর একটি চাহিদাপত্র গত সোমবার সত্যায়ন করে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন।
তবে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় তারা এখনো কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।
এর আগে গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের একটি সূত্র জানিয়েছিল, তারা কর্মী পাঠাতে প্রস্তুত। কিন্তু অভিবাসন খরচসহ কবে ও কীভাবে কর্মী পাঠানো হবে সে বিষয়ে সরকারি নীতিমালার অপেক্ষায় আছেন তারা।
এমন পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আগ্রহী কর্মীদের কাউকে কোনো টাকা না দিতে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করাতে বা পাসপোর্ট কারও কাছে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া তাদের ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের’ অধীনে ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে মূল এজেন্সি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
পরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, আরও ৩১২টি সহযোগী এজেন্সি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ‘বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’ (বোয়েসেল) এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে। এতে মোট রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৮টিতে।
সহযোগী এজেন্সিগুলো ২৫টি মূল এজেন্সির মাধ্যমেই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

