মালখানা ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে কমিটি গঠনের নির্দেশ

দেশের থানা ও আদালতের মালখানায় জব্দ করা আলামত, মালামাল ও অন্যান্য সামগ্রীর ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার আইন সচিবকে এ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

আদালত বলেছেন, মালখানা ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কার্যকর ও আধুনিক সমাধানের জন্য একটি কাঠামো প্রস্তাব করে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দেন, জব্দ করা মালামালের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রকৃত মালিকের কাছে সেগুলো দ্রুত ফেরত নিশ্চিত করতে দেশের সব থানার জন্য মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সার্কুলার জারি করবেন। একইভাবে অধস্তন আদালতগুলোর জন্য এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করবেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানান। তবে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশ প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

এর আগে ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী—মোহাম্মদ নওয়াব আলী, মো. মুজাহেদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, জি এম মুজাহিদুর রহমান মুন্না এবং ইমরুল কায়েস একটি রিট আবেদন করেন। আবেদনে দেশের বিভিন্ন থানা ও মালখানায় অনিরাপদ অবস্থায় পড়ে থাকা মূল্যবান গাড়িসহ জব্দ করা আলামত ও মালামাল যথাযথভাবে সংরক্ষণে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

শিশির মনির জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গঠিত ১২ সদস্যের কমিটির সভাপতি হবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মালখানা ব্যবস্থাপনার আদলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের সুপারিশ করবে কমিটি।

কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন—পুলিশের আইজিপি মনোনীত একজন পুলিশ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল মনোনীত অধস্তন আদালতের একজন বিচারক, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মনোনীত একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, অ্যাটর্নি জেনারেলের মনোনীত দুজন কর্মকর্তা, রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও তার মনোনীত একজন প্রতিনিধি, ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) মনোনীত একজন প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মনোনীত একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মনোনীত একজন প্রতিনিধি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মনোনীত শুল্ক অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি 

শিশির মনির বলেন, দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালত প্রাঙ্গণে জব্দ করা অনেক মালামাল বছরের পর বছর অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এগুলো রাষ্ট্রের কোনো কাজে আসে না, আবার প্রকৃত মালিকেরাও নিজেদের সম্পদ ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হন। জব্দ করা সম্পদের এমন অব্যবস্থাপনা বিশ্বের খুব কম দেশেই দেখা যায়।

শিশির মনির আরও জানান, এর আগে পুলিশ কর্তৃপক্ষ দেশের মালখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়েছিল।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আর রিটকারীদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরকে সহায়তা করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও যায়েদ বিন আমজাদ।

Related Articles

Latest Posts