ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটকের অভিযানে জড়িত মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, তথ্য প্রকাশের আগেই তিনি মাদুরোর অপসারণের ওপর বাজি ধরেছিলেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, গ্যানন কেন ভ্যান ডাইক নামে ওই সেনা সদস্য গোপন তথ্য ব্যবহার করে ক্রিপ্টো-চালিত প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেটে লেনদেন করেছিলেন।
বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ‘এটি স্পষ্ট ইনসাইডার ট্রেডিং এবং ফেডারেল আইনের অধীনে এটি অবৈধ।’
বিবিসি বলছে, উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সক্রিয় দায়িত্বে থাকা এই সেনা তার বাজির মাধ্যমে ৪ লাখ ৯ হাজার ডলারের বেশি লাভ করেন।
৩ জানুয়ারি রাতে নাটকীয় অভিযানে মার্কিন বাহিনী কারাকাস থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তারা অস্বীকার করেছেন।
বিচার বিভাগ জানায়, ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামে পরিচিত এই অভিযানের সময় ও ফলাফল নিয়ে ভ্যান ডাইক বাজি ধরেছিলেন ‘লাভের জন্য’।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি পলিমার্কেটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে মাদুরো ও ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত বাজারে লেনদেন শুরু করেন। অপারেশন সম্পর্কিত গোপন তথ্য হাতে থাকা অবস্থায় তিনি ৩৩ হাজার ডলারের বেশি বাজি ধরেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিকমাধ্যমে পলিমার্কেট জানায়, ‘যখন আমরা দেখেছি একজন ব্যবহারকারী সরকারি গোপন তথ্য ব্যবহার করে লেনদেন করছেন, তখন বিষয়টি ডিওজেকে জানিয়েছি এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছি।’
তারা আরও বলে, ‘পলিমার্কেটে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের কোনো স্থান নেই। আজকের গ্রেপ্তার প্রমাণ করে সিস্টেম কাজ করছে।’
ভ্যান ডাইকের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, ব্যক্তিগত লাভের জন্য গোপন সরকারি তথ্য ব্যবহার, অপ্রকাশিত সরকারি তথ্য চুরি, পণ্যবাজার জালিয়াতি, ওয়্যার ফ্রড এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ‘আমাদের সামরিক সদস্যদের গোপন তথ্য দেওয়া হয় যাতে তারা নিরাপদ ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য এসব সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেডিকশন মার্কেট নতুন বিষয় হলেও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষার আইন পুরোপুরি প্রযোজ্য।’
নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি জে ক্লেটন বলেন, প্রেডিকশন মার্কেট ‘ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহৃত গোপন বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ব্যবহারের আশ্রয়স্থল নয়’।
বিচার বিভাগ জানায়, সেনা সদস্য হিসেবে ভ্যান ডাইক গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করেছিলেন, যেখানে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন—সামরিক অভিযানের কোনো গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য তিনি কখনোই প্রকাশ করবেন না।
ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে অন্তত ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে যুক্ত ছিলেন এবং এতে সম্পর্কিত সংবেদনশীল, অপ্রকাশিত গোপন তথ্যের অ্যাক্সেস ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশনও (সিএফটিসি) তার বিরুদ্ধে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে।
বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি বিষয়টি শোনেননি, তবে খতিয়ে দেখবেন।
প্রেডিকশন মার্কেট ইনসাইডার ট্রেডিং বাড়াতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এসব ব্যাপারে সন্তুষ্ট নই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে পুরো বিশ্বটাই কিছুটা ক্যাসিনোতে পরিণত হয়েছে। ইউরোপসহ সর্বত্র এসব বাজির বিষয় চলছে। আমি কখনোই এসবের পক্ষে ছিলাম না।’

