ফুটবলারদের কাছে বিশ্বকাপ মানেই ক্যারিয়ারের পরম আরাধ্য এক স্বপ্ন। চার বছরের কঠোর পরিশ্রম আর ত্যাগের পর সেই রঙিন মঞ্চে পা রাখার মুহূর্তটিই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় সার্থকতা। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের বাঁশি বাজার আগেই অনেক তারকার সেই স্বপ্ন থমকে গেছে অনাকাঙ্ক্ষিত চোটের কারণে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের এই মহাযজ্ঞের জন্য দল ঘোষণার শেষ সময় ১১ মে। হাতে সময় থাকলেও এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, চোটের কারণে অনেক পরিচিত মুখকে এবার মাঠের লড়াইয়ে দেখা যাবে না।
চোটের মিছিলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা তাদের দুই অভিজ্ঞ তারকা রদ্রিগো এবং এদের মিলিতাওকে পাচ্ছে না। সেই সঙ্গে তরুণ তুর্কি এস্তেভাওয়ের বিশ্বকাপ অভিষেকও থমকে গেছে হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে।
আর্জেন্টাইন শিবিরেও বিষাদের সুর। তরুণ ভালেন্তিন কার্বোনি ও হোয়াকিন পানিচেল্লি—দুজনেই হাঁটুর গুরুতর ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ স্বপ্ন হারিয়েছেন। স্পেনের হয়ে দারুণ ফর্মে থাকা উদীয়মান স্ট্রাইকার সামু আগেহাওয়া ফেব্রুয়ারিতে এসিএল ইনজুরিতে পড়ে ছিটকে গেছেন।
ফরাসি শিবিরে বড় আঘাত হয়ে এসেছে হুগো একিটিকের অ্যাকিলিস টেন্ডনের ইনজুরি। একই কারণে মাঠের বাইরে চলে গেছেন জার্মানির অভিজ্ঞ উইঙ্গার সার্জ ন্যাব্রি। এদিকে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে লড়তে হবে প্যাট্রিক আগেমাংকে ছাড়াই।
আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে ঘানা তাদের দুই সেরা তারকা মোহাম্মদ কুদুস ও মোহাম্মদ সালিসুকে ছাড়াই মাঠে নামতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া এসিএল ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন জাপানের তাকুমি মিনামিনো ও নেদারল্যান্ডসের মাঝমাঠের ভরসা জাভি সিমন্স।
তবে শঙ্কার মেঘের মাঝেও আশার আলো দেখছেন কেউ কেউ। কিলিয়ান এমবাপে, লামিন ইয়ামাল ও বুকায়ো সাকারা দ্রুত সেরে উঠছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনের আগে চোটের এই তালিকা আরও বদলাতে পারে।
যাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেল, তাদের জন্য এই অপেক্ষা এখন দীর্ঘ চার বছরের। আর যারা লড়াই করছেন চোট কাটিয়ে ফেরার, তাদের জন্য প্রতিটা সেকেন্ড এখন ঘড়ির কাটার সঙ্গে যুদ্ধ।

