রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলীর মাজারে তিন দিনব্যাপী বাৎসরিক ওরস শুরু হয়েছে। এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাজারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চিন্তাবিদ ও লেখক ফরহাদ মজহার।
আজ মঙ্গলবার উদ্বোধনী দিনে সাধু-গুরু-ভক্ত ও ওলি-আউলিয়া আশেকান পরিষদ এবং ভাব বৈঠকীর এক গণঅবস্থান ও ভাবগানের আসরে তিনি এ কথা বলেন।
গণঅবস্থানের মূল বক্তব্যে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘যদি আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র কায়েম করতে চাই, তবে তার সূচনা হতে হবে মাজারে। মাজার হবে আমাদের পরীক্ষাকেন্দ্র।’
মাজারে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক আদর্শ দেখা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র হলো এমন একটা ব্যবস্থা যেখানে নিরাশ্রয় আশ্রয় পায়, অনাথ আশ্রয় পায়; তার ওপর অত্যাচার হয় না, জুলুম হয় না। সকলের কথা বলার অধিকার আছে। মাজার কিন্তু সেই নীতির ওপর দাঁড়ানো।’
মাজারে হামলাকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি যদি আমার নবীর জন্য গান করি, আশেকানে জিকির করি, আপনি এসে বলবেন, তুমি গান করতে পারবা না, তোমারটা ঠিক নাই। তোমারে কে দিলো এই অধিকার?’
‘মাজারে জমা হওয়া অর্থ লুট করার জন্যই একটি শ্রেণি মাজারে হামলা করছে’ বলে অভিযোগ করেন ফরহাদ মজহার।
সাধু-গুরু-ভক্ত ও ওলি-আউলিয়া আশেকান পরিষদ এবং ভাব বৈঠকীর সমন্বয়ক মোহাম্মদ রোমেল তার বক্তব্যে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একশর বেশি মাজারে হামলা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মাজারে মানুষের বৈচিত্র্যের যে সম্মেলন ঘটে, তাদের ওপর হামলা মানে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ওপর হামলা।’
মঙ্গলবার বিকেলে মাজার প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের সমাবেশ দেখা দেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমবেত হন। মাজার কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওরসে আগতদের খিচুরি ও অন্যান্য খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করতে দেখা যায়।
ভোলা থেকে আসা ইউসুফ আলী চিশতি (৫৯) দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে নিয়মিত আসছেন এই ওরসে। সাম্প্রতিক হামলা ও হামলার আতঙ্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মালিক রক্ষা করবে’।
ময়মনসিংহ থেকে দুই ছেলেকে নিয়ে ওরসে আসা কুলসুম বেগম (৩৫) বলেন, ‘আমার বাবা শাহ আলীর (রহ.) ভক্ত ছিলেন। ছোটবেলায় আমাদের সব ভাই-বোনকে নিয়ে আসতেন। বাবা আর নেই, কিন্তু আমরা এই ওরসে আসা অব্যাহত রেখেছি।’
মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই ওরস চলবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

