আওয়ামী আমলে মসজিদের নামে, ইসলামের নামে যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক তার নির্বাচনী এলাকা সেনবাগের মডেল মসজিদের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘ভবনটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, যাতায়াত ব্যবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল।’ তিনি এ প্রকল্পের তদন্ত দাবি করেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, তার নির্বাচনী এলাকার দুর্গাপুরের মডেল মসজিদের অবস্থা আরও ভয়াবহ।
তিনি বলেন, ‘সামনে বিশাল একটি পুকুর, তার পেছনে মডেল মসজিদ। সেখানে যেতে একটি সেতুর প্রয়োজন। স্থানীয়রা মসজিদটির নাম দিয়েছে “দুর্গাপুরের তাজমহল”।’
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের পক্ষে প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে অর্থ লুটপাটের জন্য নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। আমি বলছি না, এখানে পদ্মা সেতুর মতো দুর্নীতি হয়েছে। মডেল মসজিদ অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু মসজিদের নামে, ইসলামের নামে যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ যথাযথ ছিল কি না, সেটি একটি যৌক্তিক প্রশ্ন। এখন ১৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে কীভাবে ২১ কোটি টাকায় গেল। এ মডেল মসজিদগুলোর সমস্ত প্রকল্প ব্যয় তদন্তের জন্য আমি আজই মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেবো। এর মধ্যে (তদন্তে) সরকারের অন্যান্য সংস্থাও জড়িত হতে পারে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সাহেবের শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতির জন্য মেগা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
সালাহউদ্দিনের ভাষ্য, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা হয় এবং একই সঙ্গে প্রাক্কলিত ব্যয়ও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণের মধ্যেই দুর্নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, পরে বারবার সময় বাড়ানো এবং ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

