স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো ঝড় তুলল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একে একে ওপেনার জন ক্যাম্পবেল, অধিনায়ক শেই হোপ ও চারে নামা আমির জাঙ্গু তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। ফলে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে চারশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করল ক্যারিবিয়ানরা।
বুধবার গুয়াহাটিতে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে ৪০৫ রানের বিশাল পুঁজি পেয়েছে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সংস্করণে তাদের আগের সেরা ছিল ২০১৯ সালে, সেন্ট জর্জে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ৩৮৫ রান। আর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে কোনো দলের এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে মাত্র ৬৫ বলে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ক্যাম্পবেল করেন ১০১ রান। ৬৮ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন নয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। তিনি ফিফটি স্পর্শ করেছিলেন ২৯ বলে। ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে উইন্ডিজের হয়ে দ্রুততম ফিফটি ও সেঞ্চুরি— দুটি রেকর্ডই এখন ক্যাম্পবেলের। এর আগে ২০০২ সালে আহমেদাবাদে ৩০ বলে ফিফটি করেছিলেন ক্রিস গেইল, ১৯৯৯ সালে সিঙ্গাপুরে ৭২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন রিকার্ডো পাওয়েল।
ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে ২০তম সেঞ্চুরির স্বাদ নেন হোপ। আক্রমণাত্মক ইনিংসে ৯০ বলে তিন অঙ্কে পা রেখে তিনি সাজঘরে ফেরার আগে করেন ১০৪ রান। তার ৯৪ বলের ইনিংসে চার আটটি ও ছয় তিনটি। এই সংস্করণের ক্রিকেটে ক্যারিয়াবিয়ানদের পক্ষে হোপের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল গেইলের— ২৫টি।
আউট হওয়ার আগে মারমুখী ব্যাটিংয়ে জাঙ্গু ১৩টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৭৭ বলে করেন ১১৪ রান। তিনি সেঞ্চুরিতে পা রেখেছিলেন ৭০ বলে। ক্যাম্পবেলের মতো জাঙ্গুরও এটি দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
ওয়ানডেতে কোনো ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি এই নিয়ে দেখা গেল মাত্র ষষ্ঠবার। দক্ষিণ আফ্রিকারই এই কীর্তি আছে তিনবার— ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, একই বছর ভারতের বিপক্ষে ও ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বাকি দুটি নজির ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার দখলে।
ওয়ানডেতে অষ্টম দল হিসেবে চারশ রানের ঘরে পা রাখল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বোচ্চ আটবার করে এই কীর্তি আছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের। চারশ রান ছোঁয়া বাকি দলগুলো হলো ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে।
প্রথম পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৯৬ রান তোলে উইন্ডিজ। মাঝের ৩০ ওভারের দ্বিতীয় পাওয়ার প্লেতেও অব্যাহত ছিল এই দাপট। এই সময়ে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে আরও ২৩৩ রান যোগ করে দলটি।
তবে এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় শেষ পাওয়ার প্লের সুবিধা সেভাবে কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। শেষ ১০ ওভারে ৪ উইকেট খুইয়ে তাদের সংগ্রহে আসে কেবল ৭৬ রান। তা না হলে দলীয় সংগ্রহ হতে পারত আরও বিশাল।

