ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
গতকাল বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিশন গ্রিয়ার জানান, ‘ট্রেড অ্যাক্ট’-এর ৩০১ নম্বর ধারার অধীনে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমনটি জানানো হয়।
ইউএসটিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বছরব্যাপী তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে যে—ডিজিটাল বাণিজ্য, শুল্ক, মেধাস্বত্ব, ইথানল ব্যবহারের সুযোগ এবং বন উজাড় সংক্রান্ত ব্রাজিলের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একদিন আগে রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েক মাস ধরে দীর্ঘ আলোচনা চললেও তা কোনো কাজে আসেনি। ফলে ব্রাজিল থেকে আসা কিছু পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসাতে পারে—এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন ব্যক্তির বরাতে রয়টার্স এই খবর দেয়।
গ্রিয়ার বলেন, মার্কিন শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ন্যায্যভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে, সেজন্য ব্রাজিলের অন্যায্য বাণিজ্য নীতিগুলোর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, গত এক বছর ধরে অনেক আলোচনা হলেও ফল আসেনি, তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার সুযোগ রাখছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন যে, ব্রাজিলের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনা করেনি। তার মতে, প্রেসিডেন্ট লুলা জনগণের মঙ্গলের চেয়ে নিজের জেদ বা অহংকারকে বড় করে দেখেছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির অধীনে ব্রাজিলই প্রথম দেশ হিসেবে এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই ধারা মূলত বাণিজ্যে কোনো অনিয়ম বা অন্যায্য আচরণের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
নিন্দা জানাল ব্রাজিল
ব্রাজিলের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট দপ্তর।
প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কার্যালয় থেকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আজকের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে ব্রাজিল সরকার।
একইসঙ্গে তথাকথিত অন্যায্য বাণিজ্যিক চর্চার অভিযোগও অস্বীকার করেছে দেশটি।

