বিশ্বকাপ শুরুর আগে মেক্সিকোয় মানবঢেউয়ের বিশ্বরেকর্ডের চেষ্টা

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তার আগেই ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে মেক্সিকো। শনিবার রাজধানী মেক্সিকো সিটির প্রধান সড়কে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবঢেউ বা ‘মেক্সিকান ওয়েভ’ তৈরির চেষ্টা করেছেন।

ফুটবল মাঠে দর্শকদের তৈরি করা এই ঢেউয়ের জনপ্রিয়তা মূলত ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ থেকেই ছড়িয়ে পড়ে। সেবার নিজেদের মাঠে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে মেক্সিকোর সমর্থকেরাই প্রথম ব্যাপকভাবে এই উদযাপনকে জনপ্রিয় করে তোলেন। পরে এটি বিশ্বের প্রায় সব বড় স্টেডিয়ামের পরিচিত দৃশ্যে পরিণত হয়।

শনিবার সকাল থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরে, হাতে পতাকা নিয়ে এবং উচ্চস্বরে বাজতে থাকা সংগীতের তালে নেচে-গেয়ে জমায়েত হতে থাকেন হাজারো মানুষ। প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত বিখ্যাত পাসেও দে লা রিফর্মা সড়ক ভরে যায় উৎসবমুখর জনসমুদ্রে।

সামনের সারিতে দাঁড়ানো স্যালি আভিলেস আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, “আমরা অবশ্যই রেকর্ড গড়ব। কারণ আমরা সবসময়ই এটা করি। প্রতিটি ম্যাচে, প্রতিটি স্টেডিয়ামে।”

অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা অনেক নারীও। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ‘কাত্রিনা’ সাজে উপস্থিত হন, যা মেক্সিকোর বিখ্যাত ‘ডে অব দ্য ডেড’ উৎসবের প্রতীকী চরিত্র।

স্থানীয় জনপ্রিয় সংগীতদল ‘লা সোনোরা সান্তানেরা’ পরিবেশন করে প্রাণবন্ত সুর। অন্যদিকে একজন উপস্থাপক বিশাল জনতাকে নির্দেশনা দেন কীভাবে একসঙ্গে মানবঢেউ তৈরি করতে হবে।

তার নির্দেশনা অনুযায়ী সামনের সারির মানুষ হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে হঠাৎ নিচু হয়ে যান। এরপর একে একে পেছনের সারিগুলো একই ভঙ্গি অনুসরণ করে। ফলে পুরো জনসমুদ্র সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো দুলতে থাকে।

৫৫ বছর বয়সী গ্লোরিয়া ফ্রাগোসো বলেন, “এত সুন্দর একটি আয়োজনের অংশ হওয়ার সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে পারতাম না। বিশ্বের সামনে দেখাতে চাই, মেক্সিকো আসলে কেমন—এখানে আছে উৎসব, ভালোবাসা, ঐক্য এবং শান্তি।”

তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগত সমর্থকদের স্বাগত জানাতে মেক্সিকো পুরোপুরি প্রস্তুত।

যদিও দীর্ঘদিন ধরেই মাদকচক্র ও গ্যাং সহিংসতার সমস্যায় ভুগছে দেশটি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে মেক্সিকো সিটি, মনতেরেই ও গুয়াদালাহারায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির সাংস্কৃতিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবঢেউয়ের রেকর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। তাদের যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে, সত্যিই কি নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়তে পেরেছে মেক্সিকো।

 

Related Articles

Latest Posts