বিশ্বকাপ জয়ের পর খেলোয়াড়দের জন্য পুরস্কার হিসেবে সাধারণত থাকে পদক, ট্রফি কিংবা অর্থ। তবে স্পেনের দুই ফুটবলার ফাবিয়ান রুইস ও গাভি পেলেন একেবারেই ভিন্নধর্মী উপহার। নিজেদের শরীরের ওজনের সমান টমেটো পেয়েছেন তারা।
২০২৬ বিশ্বকাপ জিতে দেশে ফেরার পর বুধবার নিজ শহর লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কা-য় সংবর্ধনা পান এই দুই মিডফিল্ডার। সেভিয়ার দক্ষিণে প্রায় ৪০ হাজার জনসংখ্যার ছোট্ট এই শহরেই বেড়ে উঠেছেন তারা।
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইস। বার্সেলোনার তারকা গাভিও পুরো টুর্নামেন্টে ছিলেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গলায় বিশ্বকাপের স্বর্ণপদক ঝুলিয়ে হাজির হন দুজন। এরপর স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী তাদের দাঁড় করানো হয় ওজন মাপার যন্ত্রে। যে পরিমাণ ওজন হয়, ঠিক তত কেজি টমেটোই উপহার হিসেবে দেওয়া হয় খেলোয়াড়দের।
ওজন মাপার পর দেখা যায়, রুইস পাবেন ৮৫ কেজি এবং গাভি ৬৮ দশমিক ৫ কেজি টমেটো। অর্থাৎ দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মিলে পাচ্ছেন ১৫৩ দশমিক ৫ কেজি টমেটো। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কৃতী ক্রীড়াবিদদের সম্মান জানাতে এই ব্যতিক্রমী উপহার শহরের ঐতিহ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলের সদস্য হেসুস নাভাসও। লস পালাসিওস ই ভিয়াফ্রাঙ্কা থেকে প্রথম বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার ছিলেন তিনি। ২০২৪ ইউরো জয়ের পর নাভাস ও রুইসকেও একইভাবে টমেটো উপহার দেওয়া হয়েছিল।
এবার শহর কর্তৃপক্ষ আরও বড় সম্মান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নাভাস ও রুইসের নামে আগে থেকেই থাকা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের পাশাপাশি গাভির নামেও একটি ফুটবল মাঠের নামকরণ করা হবে। এছাড়া তিন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শহর পরিষদের ভাষ্য, ‘এই তিন ফুটবলার শুধু আমাদের গর্বই নন, তারা আগামী প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক।’

