ফের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা শেষ পর্যন্ত অপূর্ণই থেকে গেছে। ফাইনালের হার এখনো পোড়াচ্ছে লিওনেল মেসিকে। পরাজয়ের বেদনা ভোলা সহজ হবে না, তা নিজেই জানিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে ফুটবল থেমে থাকে না। বুকভরা কষ্ট নিয়েই আবারও সবুজ ঘাসে ফিরলেন বিশ্বের সেরা এই ফুটবলার। ইন্টার মায়ামির অনুশীলনে দেখা গেছে তাকে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের ঠিক ১০ দিন পর বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামির অনুশীলনে যোগ দেন লিওনেল মেসি। মেজর লিগ সকারের ক্লাবটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখিয়েছে, দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে অনুশীলন মাঠে প্রবেশ করছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
গত ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে পরাজয়ের পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে নিজ শহর রোজারিওতে ফিরে গিয়েছিলেন মেসি। ফাইনালের পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, এই কষ্ট অনেক গভীর এবং এই ক্ষত সারতে অনেক সময় লাগবে।
৩৯ বছর বয়সী মেসি এবার ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিলেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল আর্জেন্টিনা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় স্পেনের কাছে পরাজয়ে। বিশ্বকাপ শেষে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার।
মেসির অনুপস্থিতির সময়ে ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচ ও তার দীর্ঘদিনের বন্ধু গিয়ের্মো হোয়োস জানিয়েছিলেন, মেসি কিংবা আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির আরেক তারকা রদ্রিগো দে পলের ফেরার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। তার ভাষায়, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের পর খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়া স্বাভাবিক। তাই তাদের প্রয়োজনীয় সময়টুকু দেওয়া উচিত।
বিশ্বকাপ থেকে ফেরার পরপরই অনুষ্ঠিত হওয়ায় বুধবারের এমএলএস অল-স্টার ম্যাচে অংশ নেননি মেসি ও রদ্রিগো দে পল। মেজর লিগ সকার কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় দুজনকেই ছাড় দিয়েছে। সাধারণত অল-স্টার ম্যাচে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির কারণে এবার তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মেসির প্রত্যাবর্তনের দিনক্ষণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আগামী শনিবার কলম্বাস ক্রুকে আতিথ্য দেবে ইন্টার মায়ামি। এরপর আগামী বুধবার মেক্সিকান ক্লাব সান লুইসের বিপক্ষে লিগস কাপ অভিযান শুরু করবে দলটি। সবকিছু ঠিক থাকলে এই দুই ম্যাচের যেকোনো একটিতেই আবারও দর্শকদের সামনে মাঠে নামতে পারেন মেসি।

