আসন্ন মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না হলে ক্রিকেটাররা যে আর্থিক ও পেশাগত দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তা খোলামেলাভাবেই স্বীকার করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। তবে টুর্নামেন্টের শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে বিসিবি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে বিপিএল স্থগিত করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন বিসিবি প্রধান। টুর্নামেন্ট না হলে ক্রিকেটারদের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে—এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম ইকবাল বলেন, ‘খেলোয়াড়দের কাছে মেসেজ যাচ্ছে। আমি খেলোয়াড় থাকলে নিজেও হতাশ হতাম। তাদের আর্থিক ক্ষতি হবে এটা আমি দ্বিমত করি না। কিন্তু তারাও বোঝে যে এই টুর্নামেন্টটা এমন হওয়া উচিত যা নিয়ে বিসিবি গর্ব বোধ করতে পারে।’
বিপিএলের মান ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যা হয়েছে তা নিয়ে কি আমরা গর্বিত? সম্ভবত না। কাজেই খেলোয়াড়রাও একমত যে জিনিসটা সুন্দরভাবে হওয়া উচিত। যুক্তি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে মূল বিষয় হলো টুর্নামেন্টটা ঠিকভাবে চালানো।’
বিপিএল যে দেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় একটি ব্র্যান্ড, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিসিবি সভাপতি যোগ করেন, ‘বিপিএল একটা গ্রেট প্রোডাক্ট এবং এটার প্রচুর আগ্রহ আছে। এটাকে ঠিকমতো চালাতে পারলে আগ্রহ আরও বাড়বে।’
বিগত কয়েক আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অনিয়ম, পেমেন্ট খেলাপ এবং এর ফলে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তামিম স্পষ্ট জানান, সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না করে বিসিবি লোকসান গুনে আর বিপিএল আয়োজন করবে না। ক্ষতি সামলে উঠতে ৬ থেকে ১২ মাস সময় লাগলেও টুর্নামেন্টটিকে লাভজনক ও পেশাদার মডেলে ফিরিয়ে আনাই এখন বোর্ডের মূল লক্ষ্য।

