প্রায় পাঁচ দশক আগে কিশোর বয়সে টিকিট না কেটেই ট্রেনে যাতায়াত করতেন গাজীপুরের শ্রীপুরের মফিজুল ইসলাম (৬২)। প্রায় ৫০ বছর পর ২০ হাজার টাকা ‘অপরিশোধিত দায়’ শোধ করেছেন তিনি।
শ্রীপুরের চন্নাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বর্তমানে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি তিনি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়মুক্ত হন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মফিজুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে জানান, ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সালের দিকে তিনি কাঁঠাল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তখন শ্রীপুর থেকে ঢাকায় ট্রেনের ছাদে করে কাঁঠাল পরিবহন করতেন এবং অনেক সময় টিকিট ছাড়া যাতায়াত করতেন।
তিনি বলেন, ‘টিকিট ছাড়া ২-৩ বছর ট্রেনে যাতায়াত করেছি। অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল, রেলের পাওনা ফেরত দেওয়া উচিত। শেষ পর্যন্ত বিবেকের তাড়নায় এই টাকা পরিশোধ করেছি।’
স্টেশনমাস্টার সাইদুর জানান, রেলওয়েতে পুরোনো বকেয়া বা অনিষ্পন্ন ভাড়ার অর্থ পরিশোধের একটি আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মফিজুল টাকা জমা দেন।
গত ২৮ মার্চ বিশেষ রশিদের মাধ্যমে তিনি ২০ হাজার টাকা রেলওয়ে কোষাগারে জমা দেন। একসঙ্গে এত টাকার টিকিট না থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান করা হয়।
স্টেশনমাস্টার মো. সাইদুর রহমান আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর নিজের ভুল স্বীকার করে দায়মুক্ত হওয়ার এমন মানসিকতা বিরল। আমি তাকে সাধুবাদ জানাই। টাকা অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।’
দেশের যেকোনো রেলস্টেশনে এভাবে যেকেউ দেনা পরিশোধ করতে পারে বলে জানান তিনি।

