বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: ই-বুকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে যা আছে

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনের ৫ দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার বুঝে নেন তারেক রহমান। ইতোমধ্যে এই সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হয়েছে।

‘জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি’ নিশ্চিতের অংশ হিসেবে বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে আজ সোমবার একটি ই-বুক প্রকাশ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে।

ই-বুকের অষ্টম ও নবম পাতায় ঠাঁই পেয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড, যার শিরোনাম ‘স্বরাষ্ট্র’।

এ অংশের শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা, পুলিশ ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।’

এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা ও মেহেরপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় যথাক্রমে ১৯ ও ২৯ দিনের মধ্যে দেওয়া হয়েছে; চট্টগ্রামে জঙ্গল সলিমপুরে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে; সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও পুশ-ইন প্রতিরোধ করা হয়েছে; শহীদ জিয়ার পলাতক খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; পুলিশের সংস্কার ও পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কারাগার ও আটককেন্দ্রে মানবাধিকার তদারকি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশু রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত বিচার

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ১৯ দিনে এবং মেহেরপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির মাধ্যমে এক মাসে ১০টি রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুরে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় ৩ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত অভিযানে হেলিকপ্টার, ড্রোন, সাঁজোয়া যান ও কুকুরদল ব্যবহার করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে দুর্গম এলাকাটিতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও পুশ-ইন প্রতিরোধ

পুশ-ইন প্রতিহত: কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি একাধিক পুশ-ইন প্ৰচেষ্টা প্রতিহত করেছে। সীমান্তে নজরদারি ও টহল বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

নাগরিকত্ব যাচাই: ভারতের দেওয়া তালিকায় নামের পুনরাবৃত্তি, অসম্পূর্ণ ঠিকানাসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি চিহ্নিত করে যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রহণ না করার অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ভারতে আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।

কূটনৈতিক উদ্যোগ: সীমান্তে একতরফা কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ভারতের কাছে কূটনৈতিক নোট বা ডেমার্শ পাঠানো হয়েছে। নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকেও পুশ-ইন বন্ধের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে উত্থাপন করা হয়েছে।

শহীদ জিয়ার খুনি হিসেবে পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর হোসেনকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন এবং বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশের সংস্কার ও পুনর্গঠন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তা

রোহিঙ্গা শিবিরে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, অপরাধী চক্র এবং সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

কারাগার ও আটককেন্দ্রে মানবাধিকার তদারকি

কারাগার ও অন্যান্য আটককেন্দ্রে মানবাধিকার পরিস্থিতি তদারকিতে ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম’ (এনপিএম) বিভাগ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) আইনের চূড়ান্ত খসড়ায় এ বিভাগের কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিভাগটি পূর্বঘোষণা ছাড়াই কারাগার, পুলিশ হেফাজত, কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র, অভিবাসী আটককেন্দ্র, মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, সামরিক আটককেন্দ্র ও সেফ হোমসহ স্বাধীনতা সীমিত করা হয় এমন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারবে। প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা, গোপন সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অমানবিক আচরণের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে।

এনপিএম বিভাগ প্রতি বছর রাষ্ট্রপতির কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জাতিসংঘের নির্যাতন প্রতিরোধবিষয়ক উপকমিটির (এসপিটি) কাছেও প্রতিবেদন পাঠাবে।

Related Articles

Latest Posts