বারান্দার পাশে ট্রান্সফরমার-খোলা তার, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট নিহানের হাত বাঁচানো গেল না

গাজীপুরে বাসার বারান্দার পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের কাছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শিশুর দুই হাত এবং পেট দগ্ধ হয়েছে।

টানা নয় দিন চিকিৎসার পর গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচার করে শিশুটির বাম হাত বাহুর মাঝামাঝি থেকে কেটে ফেলেন চিকিৎসকেরা। তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।

আহত শিশুটির নাম মো. নিহান। তার বাবা খাইরুল ইসলাম গাজীপুর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী এবং মা নাইমা সুলতানা গৃহিণী। তাদের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তরখামের গ্রামে।

পরিবারটি গাজীপুর সদর উপজেলার উত্তর ছায়াবীথির শ্মশানমোড় এলাকায় সিঙ্গাপুরপ্রবাসী সাইফুল ইসলামের বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২০ জুলাই বিকেলে বাড়ির বারান্দা-ঘেঁষা পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের দিক থেকে বিকট শব্দ হয়। সে সময় বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে ছিল নিহান। হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার দুই হাত এবং পেটের প্রায় ২২ শতাংশ দগ্ধ হয়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত মঙ্গলবার তার বাম হাত বাহুর মাঝামাঝি থেকে কেটে ফেলতে হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নিহান এখনো সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত নয়। তাকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আরও কয়েকদিন না গেলে তার অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার।

নিহানের চাচা শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর ধরে তার ভাই ওই বাসায় বসবাস করছেন। গত মার্চে ছুটি শেষে বাড়িতে ফিরে বারান্দা-সংলগ্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুতের নতুন খুঁটি এবং সেখানে তিনটি ট্রান্সফরমার বসানো দেখতে পান খাইরুল। তখনই তিনি বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও তত্ত্বাবধায়ককে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

শফিকুল বলেন, আবাসিক ভবনের এত কাছে এভাবে তিনটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করা ঠিক হয়নি। দুর্ঘটনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাড়ির মালিক—উভয়েরই দায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের বিদ্যুৎ লাইন ভবনটি থেকে তিন ফুট দূরে রয়েছে এবং ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুতের ছায়াবীথি জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জিয়াউল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সেখানে আমাদের লাইন তিন ফুট দূরে রয়েছে। কোনো বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতব বস্তুর সংস্পর্শে আসার কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল ভুক্তভোগী পরিবার আমাদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানিয়েছে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে বাড়ির মালিক সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মনিরা বেগম জানান, তিনি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. ইলিয়াসকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছিলেন।

তবে তত্ত্বাবধায়ক ইলিয়াস দাবি করেন, নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়টি জানার পর খাইরুল ইসলামকে অন্য একটি ফ্ল্যাটে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি।

Related Articles

Latest Posts