বরিশাল নগরীতে সাতটি শিয়াল হত্যার ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে বরিশালের মহানগর বিচারিক হাকিম মিরাজুল ইসলাম রাসেল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মঙ্গলবার আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলায় নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হারিচ, মো. কামাল খলিফা ও জামাল খলিফাকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ছয়জনকে আসামির তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০২৬-এর ৪১ (৩) ধারায় বন্যপ্রাণী হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই বরিশাল সদর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বাদী হয়ে বরিশালের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে সাতটি শিয়াল হত্যার ঘটনায় নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ জুলাই বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি খোলা মাঠ এলাকায় সাতটি শিয়াল হত্যাসহ মাংস খাওয়ার সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিয়াল হত্যার সত্যতা পান। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে থাকায় তখন তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
নালিশি অভিযোগ পাওয়ার পর মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম মো. জহির উদ্দিন বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠিয়ে দেন। পরে শুনানি শেষে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে মামলা নথিভুক্ত করার জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেঞ্চ সহকারী মো. সেলিম বলেন, আদালতের আদেশের কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। বুধবার তা কোতোয়ালি থানায় পাঠানো হবে।
মামলার বাদী বরিশাল সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনার পর বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্ত করা হয়। তদন্তে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

