ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ নিয়ে ইউএনও কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইউএনওকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোবাশ্বির আহমেদ মজনু ও যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করেন।

এ সময় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও ইউএনওকে গালাগাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে ইউএনও মৌখিকভাবে নিয়োগের ফল স্থগিত করেন।

এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী স্থানীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করা হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরে বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধান তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ফল প্রকাশ করেন। ফল প্রকাশের পর থেকেই নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

অভিযোগকারীদের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা সালমান জামান লস্কর ও ৭ নম্বর বড়ইউড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহ শোয়েবকে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মনোনীত অন্যদের মধ্যেও অনেকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ বলে অভিযোগ করে অবিলম্বে নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তারা।

তবে নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধান।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ—মেধার বাইরে জনবল নিয়োগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ নির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর মধ্যে পরীক্ষা নিতে ৯ জন দক্ষ কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৯টি বোর্ড গঠন করা হয়। মেধাক্রম অনুযায়ী ১০০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং ৬০ জনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। বাকি প্রায় ১ হাজার ৪০০ আবেদনকারী বাদ পড়েছেন।’

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চূড়ান্ত তালিকা খসড়া করে বিএনপির স্থানীয় নীতিনির্ধারকদের জানানো হয়েছিল। তালিকায় কোনো মামলার আসামি বা অপরাধী থাকলে তারা আমাদের জানাতে পারতেন, আমরা তাদের বাদ দিতে পারতাম। এছাড়া নিয়োগ নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনো আসামি বা অপরাধী তালিকায় থাকলে তার নিয়োগ সরাসরি বাতিল করা হবে। যারা আন্দোলন করেছেন, তারাও বিষয়টি আমাদের জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। তা না করে তাদের নিজ দলীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

বানিয়াচংয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নিয়ম মেনেই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাই সবাই পাস করবেন, এমনটা স্বাভাবিক নয়। কিন্তু একটি দল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে, অশালীন ভাষায় কথা বলে এবং আমাদের স্টাফদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক এবং এতে আমরা মর্মাহত। পরে সহকারী পুলিশ সুপারসহ সরকারি দলের নেতারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোবাশ্বির আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রাসেলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।

জানতে চাইলে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ইউএনও কার্যালয়ে হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা পরিষদেও হট্টগোলের বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে পরিবেশ শান্ত করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় এখনো  কেউ থানায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 

Related Articles

Latest Posts