ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়ের অনুষ্ঠানে গরুর মাংস কম দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দেওড়া নয়াকান্দি গ্রামে লাভলু শেখের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে খাওয়ার সময় নিজ পক্ষের আমন্ত্রিত গ্রামবাসীর কয়েকজন মাংস কম দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে চারজনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন– আরিফ মিয়া, শহীদ মাতুব্বর, সোহরাব মাতুব্বর ও মমতাজ বেগম। অন্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর বলেন, বিয়েবাড়িতে মাংস কম দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবং স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে কিছু সমস্যা থাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে কনেপক্ষের সঙ্গে বরপক্ষের কোনো ঝামেলা হয়নি।
তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে, তারা গ্রামের লোক এবং কনেপক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি। সংঘর্ষের পর বরসহ বরপক্ষের লোকজন কনের বাড়িতে আসেন এবং বিয়ে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
কনের বাবা লাভলু শেখ বলেন, আমার মেয়ের বিয়েটা ছিল আমাদের পরিবারের জন্য আনন্দের একটি দিন। কিন্তু স্থানীয় গ্রাম্য দলাদলির বলি হতে হলো আমাদের।
তিনি বলেন, গ্রামের মধ্যে আমরা যাদের দাওয়াত দিয়েছিলাম, তারা শুধু মাংসের বিষয় নিয়ে ঝামেলা করেনি, বরং পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান পণ্ড করার চেষ্টা করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, গ্রামের আমন্ত্রিত কিছু অতিথিকে মাংস কম দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত চারজন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ নিয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।

