ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে খাল পুনঃখননের সরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের ২০০টিরও বেশি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের নদীয়ারচাঁদ এলাকার ‘মধুমতি নদী থেকে কামারগ্রাম সুইচগেট পর্যন্ত’ খালের প্রায় ২ কিলোমিটার অংশে বর্তমানে পুনঃখননের কাজ চলছে। এ সময় খালের দক্ষিণ পাড়ের বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের আওতায় থাকা প্রায় ১৫ বছর বয়সী মেহগনি ও শিশু গাছ কেটে ফেলা হয়।
ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ফরিদপুর বন বিভাগের উদ্যোগে বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের তালতলা থেকে ভেন্নাতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়। বর্তমানে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বোয়ালমারীতে তিনটি খাল পুনঃখননের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খননকাজের আড়ালে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে গাছগুলো কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ‘খাল কাটার নামে বৃক্ষ নিধন’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে।
পরে গতকাল রোববার রাতে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই এলাকার সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি ও নদেরচাঁদ উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হেমায়েতউদ্দিনের বাড়ি থেকে কেটে ফেলা অন্তত ৬০টি গাছের কাণ্ড ও গুঁড়ি জব্দ করা হয়। ঘটনার পর থেকে হেমায়েতউদ্দিন পলাতক।
ইউএনও রাকিবুল ইসলাম বলেন, অবৈধভাবে কোনো গাছ কাটা হয়ে থাকলে দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি জমির গাছ কেউ ব্যক্তিগতভাবে নিতে পারবে না। নিয়ম অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
তিনি বলেন, গাছ কাটার ঘটনায় বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৩ মে এ কমিটি তদন্তকাজ শুরু করবে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ মোল্লা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, খাল ও খালপাড়ের গাছ পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে খননকাজের সুবিধার্থে গাছ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিয়মের বাইরে কোনো কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, গাছ কাটার জন্য বন বিভাগ থেকে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ফরিদপুর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া কোনো গাছ কাটার সুযোগ নেই। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

