ফতুল্লায় সংঘর্ষ: মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরছিল ১৩ বছর বয়সী ইমরান হোসেন। পথে ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায় সে। আতঙ্কে একটি গলিতে ঢুকে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। একটি গুলি তার পেটের বাম পাশে লাগে। এতে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।  

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের পাশে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ ইমরান স্থানীয় হযরত সুমাইয়া (রা.) মাদ্রাসার হাফেজ বিভাগের ছাত্র। সে পরিবারের সঙ্গে চাঁদনী হাউজিং এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকে। তার বাবা আসমাউল হোসেন একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক। তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলায়। আসমাউলের তিন সন্তানের মধ্যে মেজো ইমরান।

তার বড় বোন ইশা মনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সকালে মাদ্রাসায় যায় ইমরান। সেসময় এলাকায় উত্তেজনা ছিল না। ফেরার পথে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয় সে।

‘আমার ভাই ভয়ে রাস্তার পাশের একটি গলিতে ঢুকে পড়েছিল। পরে কী ভেবে আবার গলির মুখে চলে আসে, জানি না। তখনই গুলিটা তার পেটে লাগে। সেখানেই সে লুটিয়ে পড়ে’, বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে নেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসকেরা অন্তত আট ব্যাগ রক্ত প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেন।

ইশা মনি বলেন, বিকেলে অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ইমরানের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর এনায়েতনগর ইউনিয়নের হরিহরপাড়ার চাঁদনী হাউজিং এলাকার বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেডের ঝুট নামাতেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারীরা। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অন্তত তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উভয়পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়ে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে যায় ও ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘কোন পক্ষ গুলি চালিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Related Articles

Latest Posts