প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত শাস্তির অঙ্গীকার মোদির, দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁস ইস্যুর সঙ্গে জড়িতদের ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তরুণদের মঙ্গল ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত।’

আজ বৃহস্পতিবার এএফপি ও ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নরেন্দ্র মোদি এসব বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চলমান আন্দোলন নিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম সরাসরি কোনো মন্তব্য করলেন।

তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

‘যারা তরুণদের ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না’, হুশিয়ারি দেন মোদি।

তবে মোদির এই বার্তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া অনলাইনভিত্তিক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মোদির টুইটের জবাবে দলটি জানায়, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে’।

এর আগে, চলতি সপ্তাহে ভারতে শিক্ষা সংস্কার ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বিরোধী দলগুলো যোগ দেওয়ায় আন্দোলন আরও গতিশীল হয়।

গতকাল বুধবার সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাশ জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কোনো দরকষাকষিতে তারা আগ্রহী নন।

সৌরভ বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী যতক্ষণ পর্যন্ত পদত্যাগ না করছেন, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে।’

Dharmendra Pradhan Must Resign 

धर्मेंद्र प्रधान को इस्तीफ़ा देना होगा https://t.co/0XShqJ6FVG

— Cockroach is Back (@Cockroachisback) July 23, 2026

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও আলাদা আলাদা বার্তায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করেন।

এদিকে গতকাল সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে জবাবদিহি চেয়ে আন্দোলনরত তরুণদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস পেলে অনশন ভাঙবেন বলে জানিয়েছেন।

সোনমের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন সিজেপির সৌরভ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয়ে একমত হয়েছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘শান্তি ও অহিংসাই আমাদের আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। আমি ককরোচ জনতা পার্টির প্রত্যেক সদস্যকে নিয়ে গর্বিত। সরকারের দমন-পীড়নের মুখেও তারা সহনশীলতা, সাহস ও ধৈর্য দেখিয়েছেন।’

দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বিক্ষোভ পরিস্থিতির মোকাবিলায় রাজীব চক, প্যাটেল চক, দিল্লি গেট ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটসহ দিল্লি মেট্রোর ১৬টি স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন (ইন্টারচেঞ্জ) সেবা চালু আছে।

এ ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘মোদি পুরো দিল্লি বন্ধ করে দিতে পারবেন, কিন্তু ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে পারবেন না।’

এর আগে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত পাঁচটি থানায় মোট ১০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সংসদ স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেসে তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা হয়েছে।

আইনজীবীদের দাবি, ওই দিনের অভিযানে আটক হওয়া অনেক আন্দোলনকারী এখনো বিভিন্ন থানায় আটক আছেন।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি হলো, বর্তমান ও ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া যাবে না।

গত সোমবার সিজেপি নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পার্লামেন্ট ভবন অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি বানচাল করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে।

দুই পক্ষের সহিংসতায় অন্তত ১৭৮ জন আহত হন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি অনুসারী থাকা সিজেপি (ককরোচ জাস্টিস পার্টি) গত মে মাসে প্রথম আলোচনায় আসে। আদালতের এক শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করার পর ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এর সূচনা হয়।

এরপর আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থান ও সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনব্যবস্থা ক্রমেই আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।

২০২৪ সালে টানা তৃতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ একের পর এক পরীক্ষা–সংক্রান্ত অনিয়ম ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীকে আবারও পরীক্ষা দিতে হয়েছিল।

এ ছাড়া প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার অনলাইন মূল্যায়ন নিয়ে আরেকটি বিতর্কও জনমনে আরও ক্ষোভ বাড়ায়।
 

Related Articles

Latest Posts