জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সৃজনশীল চিন্তাচর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত আটদিনব্যাপী বিতর্ক উৎসব শেষ হয়েছে।
আজ সোমবার মাধ্যমিক স্তরের চূড়ান্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। এর আগে দিনের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক স্তরের ফাইনাল।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ফাইনাল পর্বের বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘পরিবেশ রক্ষায় আইন নয়, সচেতনতাই মুখ্য’। শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে।
প্রতিযোগিতা শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ফলাফল ঘোষণা করেন।
উৎসবে মোট ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে কুতুবাইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাতানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে মরগ্যান গার্লস স্কুল ও হরিহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
প্রাথমিক পর্যায়ে কুতুবাইল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মাধ্যমিকে মরগ্যান গার্লস স্কুল চ্যাম্পিয়ন হয়।
শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত যুক্তির প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য এ ধরনের আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। তাই সহনশীলতা ও অভিযোজন নিয়ে আলোচনা জরুরি। একইসঙ্গে আইনের যথাযথ প্রয়োগও প্রয়োজন।’
এ ধরনের আয়োজন দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শৈশব থেকেই পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল, বাড়ি, টয়লেট ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস শিশুদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের চর্চা ভবিষ্যতে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা প্রশাসক রাইহান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ক্যাম্পাস ইনিশিয়েটিভের’ আওতায় আয়োজিত এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে এর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম রেজা।
‘প্রাচ্যের ডান্ডিতে যুক্তির হাওয়া’ প্রতিপাদ্য নিয়ে গত ১৫ জুন উৎসবের সূচনা হয়। কর্মশালার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ আয়োজনে মোট ৬০টি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লজিক অব বাংলাদেশের’ সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসবের গণমাধ্যম অংশীদার ছিল দ্য ডেইলি স্টার, একাত্তর টিভি, আরটিভি, বাংলাভিশন ও আমার দেশ।

