নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা-ভূমিধসের সূত্রপাত যেভাবে

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে অন্তত ১৫৭ জন ও তিব্বতে তিনজন মারা গেছেন।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।

কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল এবং এখন পরিস্থিতি কী—তা উঠে এসেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে।

নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবল বন্যায় সড়ক, সেতু, বাড়িঘর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প ভেসে গেছে। তিব্বতের সঙ্গে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর গিয়েরং পোর্ট এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকার সড়ক যোগাযোগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, ওই অঞ্চলে একটি ভূমিকম্প হয় এবং এর ফলে একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে লহেন্দে খোলা নদীতে পড়ে। এতে আকস্মিকভাবে বন্যার সৃষ্টি হয়। 

নদীটি নেপাল ও তিব্বত—দুই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এটি ভোতেকোশি নদীটির অন্যতম প্রধান উপনদী।

 

অন্তত ৪৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৯৩ জন নেপালি, ১২ জন ব্রিটিশ ও তিনজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।

একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত আটজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজদের মধ্যে আরও রয়েছেন ১৭ জন মালয়েশীয়, চারজন দক্ষিণ আফ্রিকান এবং অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের একজন করে নাগরিক।

কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, লহেন্দে খোলা নদীর উজানে এখনো একটি ব্লকেজ থাকায় দ্বিতীয় দফায় বন্যা হতে পারে।

নেপালের সীমান্তবর্তী ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশেও বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কারণ হিমালয় থেকে নেমে আসা বেশ কয়েকটি নদী এসব সমতল অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পানি না কমা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারবে না।

নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নদীর আশপাশে থাকা লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

চীন স্থলবন্দর এলাকায় অন্তত ৫৭৪ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে। তবে বন্যার সঙ্গে জমে থাকা পলি ও কাদামাটি উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যান্য দেশও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

প্রতিবেশী ভারত জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় তারা কাঠমান্ডুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে। 

দক্ষিণ কোরিয়া সরকারি কর্মকর্তা এবং দমকল ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি র‌্যাপিড রেসপন্স টিম পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।

উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয়ে জাতিসংঘও এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

Related Articles

Latest Posts