জর্ডানের রাজধানী আম্মানের সড়কে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করছিলেন এক নারী। এ সময় কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে তল্লাশি চালালে তার কাছ থেকে ৪৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার পাওয়া যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরবভিত্তিক গণমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় মূল্য বিবেচনায় উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৮০০ টাকা।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেত্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী আগে থেকেই ‘পেশাদার ভিক্ষাবৃত্তির’ সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
প্রতিদিন ভিক্ষা করে পাওয়া অর্থ তিনি নিয়মিত বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করতেন বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তবে ওই নারীর জাতীয়তা বা কতদিন ধরে তিনি এভাবে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন, তা জানায়নি মন্ত্রণালয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনার পর জর্ডানের সমাজ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় সাধারণ মানুষকে রাস্তায় ভিক্ষুকদের সরাসরি টাকা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, কিছু ভিক্ষুক অসুস্থ বা চরম আর্থিক সংকটে থাকার মিথ্যা দাবি করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।
প্রয়োজনে অসহায় মানুষকে সহায়তা করতে চাইলে অনুমোদিত ও নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে অর্থ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া সন্দেহজনক ভিক্ষাবৃত্তির ঘটনা কর্তৃপক্ষকে জানাতেও জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে পরিদর্শন দলগুলো নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছে সমাজ মন্ত্রণালয়।
জর্ডান টাইমসের ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটিতে ভিক্ষাবৃত্তিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
জর্ডানের দণ্ডবিধির ৩৮৯ ধারার অধীনে জনসমক্ষে ভিক্ষা চাওয়া বা অর্থ-সহায়তা সংগ্রহ করা একটি অপরাধ।
২০২২ সালে আইনটি সংশোধন করে ভিক্ষাবৃত্তির আরও কয়েকটি ধরন ও শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়।
এতে ক্ষত বা অক্ষমতা দেখিয়ে বা ভান করে ভিক্ষা চাওয়া, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে ভিক্ষায় ব্যবহার বা উৎসাহিত করা, ভিক্ষার উদ্দেশ্যে এমন সামগ্রী বা প্রদর্শনী দেখানো, যা জীবিকার প্রকৃত উৎস নয়, জনসাধারণের সহানুভূতি পেতে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া এবং মিথ্যা দাবির ভিত্তিতে দান বা অনুদান সংগ্রহের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

