ইরানের বেসামরিক স্থাপনার ওপর হামলা শুরু করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। যুদ্ধবিরতির আওতায় ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর দুই পক্ষই নিজেদের ‘বিজয়ী’ হিসেবে দাবি করেছে। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘একচ্ছত্র ও পূর্ণাঙ্গ জয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে ইরানও যুদ্ধবিরতিকে তাদের বড় জয় হিসেবে দেখছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে শত্রুদের কাপুরুষোচিত, অবৈধ ও অপরাধমূলক যুদ্ধে তারা ঐতিহাসিক এবং শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছে। ইরান এক বিশাল বিজয় অর্জন করেছে।’
স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
লেবানন পরিস্থিতি
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইসরায়েলও এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েলি অভিযানে দেশটিতে দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে হামলা অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
চীনের ভূমিকা প্রসঙ্গে ট্রাম্প
এএফপির সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তার বিশ্বাস চীনের চাপেই মূলত ইরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। তেহরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম নিয়েও একটি সমাধান আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় বলেছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বড় বিজয়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের সেনাবাহিনী সম্ভব করেছে। আমাদের সামরিক বাহিনীর শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দর-কষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে।’

