সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের কাজ শিগগিরই শুরু হবে।
আজ রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মন্ত্রী বলেন, ‘২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয় নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ-২০১৮। তবে আয়কর পরিশোধ সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিক ও পত্রিকা মালিকদের মধ্যকার মতবিরোধের কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে বর্তমানে ছয়টি রিট আদালতে চলমান।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন হালনাগাদ করা হচ্ছে। যাতে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে পেশাগতভাবে কাজ করতে অক্ষম, শারীরিক-মানসিকভাবে অসুস্থ কিংবা চিকিৎসা ব্যয় বহনে অক্ষম সাংবাদিকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিও দেওয়া হচ্ছে।’
‘২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ১১০ জন অসুস্থ, দারিদ্র্যপীড়িত, দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক ও মৃত সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪০২টি সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের মধ্যে ৭৩ লাখ ২৬ হাজার টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ২০২৬ সালের রমজানে ২ হাজার সাংবাদিক পরিবারের মধ্যে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। অনুমোদিত ৫৫টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের মধ্যে ৩৭টি পূর্ণাঙ্গভাবে সম্প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। নতুন কোনো টিভি চ্যানেলের অনুমোদন অপেক্ষমাণ নেই। ভবিষ্যতের আবেদনগুলোর ব্যাপারে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
‘অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, প্রকৃত সাংবাদিকদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করা ও ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে উদ্যোগ নিয়েছে। সাংবাদিকদের সুরক্ষা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সহায়তা, মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে,’ বলেন তিনি।

