মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ঋণ সহায়তা পেতে বাংলাদেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই ঋণ সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় অংশ নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, এরইমধ্যে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে এবং আগামী দু-একদিনের মধ্যে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা আছে।
বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলছে।’
এর আগে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল) সরকারের আমলে বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছিল আইএমএফ। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করে।
চলতি বছরের মে মাসে মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই সেই কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। তবে গত ৩ জুন এক বিবৃতিতে আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার জানান, পরে সরকার নতুন একটি প্যাকেজের জন্য আবেদন করে।
এখন পর্যন্ত ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ওই ঋণ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে মোট ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে ভৌগোলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য অনিশ্চয়তা ও ব্যয় বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আইএমএফসহ অন্যান্য বহুপক্ষীয় সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সম্প্রতি ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে জানান, সরকার চলতি (২০২৬-২৭) অর্থবছরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিশ্বব্যাংক বরাবরের মতোই বাংলাদেশের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশীদারত্বমূলক কাঠামোগত চুক্তিতে (পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক) যাচ্ছি। এটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন এবং ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা এই কাঠামোর মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আমাদের এই অংশীদারত্ব শুধু চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানি খাতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে বিপর্যয় চলছে, তা মোকাবিলায় আমাদের একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রয়োজন।

