দেশবাসী এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত, মোকাবিলার চেষ্টা চলছে: ইরানের প্রেসিডেন্ট

সম্প্রতি ইরানের ওপর আরও বেশ কয়েক ধরনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যুদ্ধের মাধ্যমেও ইরানকে বিপর্যস্ত করে তোলাই দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্য।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, তার দেশের নাগরিকরা ‘অনেক সমস্যার’ মুখে রয়েছেন। তবে এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন তিনি। 

আজ রোববার বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, বর্তমানে আমাদের সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা যতটা সম্ভব এসব সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করছি।’

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থার ‘পতন’ ঘটানোর অঙ্গীকার করার পর পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করলেন।

দুই দেশের যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর এই নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে ইরান ‘পূর্ণমাত্রার অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধে’ রয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তিনি বলছেন, ইরানের ওপর সবচেয়ে কঠোর ও ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছেন।’

গত কয়েক বছরে ইরান সরকার কয়েক দফা বড় ধরনের গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছে।

এসব বিক্ষোভের পেছনে প্রায়ই অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো ভূমিকা রেখেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটি বিক্ষোভ আন্দোলন পরে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়।

কর্তৃপক্ষ ওই অস্থিরতার সময় ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা জানায় এবং এই সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে।

তবে বিদেশভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো দাবি করে, কর্তৃপক্ষ নির্বিচার দমন-পীড়ন চালিয়েছে এবং এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন।

রোববার পেজেশকিয়ান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার সংকট ও বেকারত্ব কাটিয়ে উঠতে এবং মানুষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আমরা চাই সবাই মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।’
 

Related Articles

Latest Posts