দুর্নীতির সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করতে চাই না: ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক তারেক রহমান বলছেন, সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। সেটি হলো, আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সঙ্গে।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডেপুটি কমিশনারদের (ডিসি) সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক, আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সুশাসনকে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি আমরা করতে চাইছি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। একইসঙ্গে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইন-কানুন ও জটিলতাকে অজুহাত হিসেবে আমরা যেন ব্যবহার না করি; বরং বাস্তবসম্মত কার্যকর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা আমরা প্রশাসনের সব পর্যায়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করি, যেন জনগণ সময় মতন সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত সুফল পেতে পারে। আমরা চাই, সততা মেধা এবং দক্ষতাই হবে জনপ্রশাসনের নিয়োগ, বদলি কিংবা প্রমোশনের মূলনীতি।

তারেক রহমান বলেন, স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সাথে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কিন্তু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, বিশ্ব এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। এ ব্যাপারে আমরা সবাই জানি। সুতরাং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যদি টিকে থাকতে হয়, তাহলে অবশ্যই জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও কিন্তু সময়ের সঙ্গে মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে। আমি নিশ্চিত, আপনারা এ বিষয়ে সচেতন আছেন এবং নিজেদের প্রস্তুত করে তুলছেন।

তিনি আরও বলেন, চতুর্থ বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে জনপ্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও কীভাবে সময়োপযোগী দক্ষ স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করা যায়, এটি বোধহয় আমাদের এখন চিন্তা করা উচিত হবে।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের জায়গা হওয়া উচিত নয়, বরং এটি এমন একটি পরিসর, যেখানে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সীমাবদ্ধতা, প্রয়োজন এবং উদ্ভাবনী চিন্তা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হতে পারে বা হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আপনারা মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ইচ্ছেমতো যেন কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়াতে না পারে কিংবা যে টেন্ডেন্সি আমরা দেখি, বিভিন্ন সময় মজুতদারি বা কারসাজির মাধ্যমে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা কেউ করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যকর নিয়মিত এবং দৃশ্যমান করা প্রয়োজন অনেকগুলো ক্ষেত্রে। আমি ক্ষেত্রগুলো যেহেতু আগে আলোচনা করেছি, সেজন্য সেখানে আর গেলাম না। বিশেষ করে এখন আরেকটি বিষয়ে আমরা জোর দিতে চাচ্ছি, সেটি নিশ্চয়ই ইনস্ট্রাকশনও আপনাদের সবার কাছে আছে। সেটি হলো, সন্ধ্যা ৭টার পরে আমরা চাইছি যে বিভিন্ন মার্কেট প্লেসগুলোতে যেন বিদ্যুৎ ব্যবহার না হয়। এ বিষয়েও আপনাদের একটু খেয়াল রাখা প্রয়োজন, খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কার্যকর নিয়মিত এবং দৃশ্যমান করার জন্য জোর পদক্ষেপ আপনারা দয়া করে নেবেন, যেন আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপরাধ দ্রুত দমন করা সম্ভব হয়। জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজতর করা এবং সরকারি সেবাকে হয়রানি মুক্ত করা এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা আমি মনে করি আপনাদের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় অংশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কার্যালয়ের সেবাপ্রার্থীরা যেন অপ্রয়োজনীয় হয়রানি না হয় কিংবা বিলম্ব বা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়েও আপনাদের কঠোর নজর রাখতে হবে। জনগণের যেকোনো ন্যায্য অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে প্রতিকারের ব্যবস্থা আপনারা নেবেন।

তিনি বলেন,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাল্যবিবাহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে যেগুলো আপনাদের ক্যাপাসিটির মধ্যে আছে। বিশেষ করে আবারো আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, বাল্যবিবাহ, নারী এবং শিশু নির্যাতন দয়া করে এই কয়টি বিষয়ে আপনারা আপনাদের ব্যক্তি অবস্থান থেকে দয়া করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রশাসনিক অবস্থান আপনাদের আছে, তারপর একজন মানুষ হিসেবে আপনারা বিষয়টিতে নজর রাখবেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এটি।

তিনি আরও বলেন, খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়। এই খাবারটি আপনি খাচ্ছেন, আমি খাচ্ছি, আপনার পরিবারের সদস্য আপনার সঙ্গে থাকছে, তারাও খাচ্ছে। কাজেই এটির প্রতিও আমাদের নজর রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতাও বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রো-অ্যাক্টিভ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমি মনে করি জনপ্রশাসনকে গণমুখী করা গেলে জনগণ সরকারের কার্যক্রমের সুফল থেকে নিশ্চয়ই বঞ্চিত হবে না।  

ডেপুটি কমিশনারদের (ডিসি) চার দিনব্যাপী সম্মেলন আজ শুরু হলো।  সম্মেলনে উপস্থিত আছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সারা দেশের জেলা প্রশাসকরা। 

জেলা প্রশাসকদের পাশাপাশি ৮ বিভাগীয় কমিশনারও সম্মেলনে আছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে আলোচনার জন্য ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য বাছাই করা হয়েছে।

সম্মেলনে ৬৪ জেলার ডিসিদের বাৎসরিক এই সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন ডিসিরা। আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত দেয় সরকার।

Related Articles

Latest Posts