ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সর্বশেষ পেয়েছিল ২০০৬ সালে। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক, দুই দলের মধ্যে হয়েছে আরও ১২টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। প্রতিবারই জয় পেয়েছে ভারত। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই এবার ভারতের মাটিতে পা রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে কাজটা যে সহজ হবে না, সেটি ভালোভাবেই জানেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক শাই হোপ।
রোববার তিরুবনন্তপুরমে শুরু হচ্ছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ২০০৬ সালে নিজেদের মাঠে ভারতকে ৪-১ ব্যবধানে হারানোর পর আর কোনো দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজে জয় পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরের ১২ সিরিজেই হেরেছে তারা। সেই পরিসংখ্যান মাথায় রেখেই এবার ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে হোপদের।
সিরিজ শুরুর আগে হোপ বলেন, ‘আমরা সব সময় বলি, ২০ বছর বা ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা এই দলকে হারাতে পারিনি। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারার বিষয়টি নিয়ে কথা বলা যায়। তবে দল হিসেবে আমরা যে অগ্রগতি করেছি, সেটি অবশ্যই প্রশংসনীয়।’
ভারতের মাটিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে জয় পাওয়ার তাড়নাই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘আপনি যখন ভারতে আসবেন এবং বিশ্বের সেরা দলের বিপক্ষে খেলতে চাইবেন, তখন সেই সেরা দলকে হারাতেও চাইবেন। তাই এটি অবশ্যই আমাদের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা। আমরা জানি, এটি কঠিন এক লড়াই হবে। তবে আমরা এই সিরিজের অপেক্ষায় আছি।’
বর্তমানে আইসিসির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের পর ২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি বাছাইপর্বের সময়সীমা শেষ হবে। ফলে এই সিরিজ থেকে দ্রুত বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ থাকছে না ক্যারিবীয়দের। তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, যারা সর্বশেষ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ার পাশাপাশি সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও শিরোপা জিতেছে।
ভারতের মাটিতে খেলার চ্যালেঞ্জের কথাও স্বীকার করেছেন হোপ, ‘নিজেদের মাঠে ভারতের বিপক্ষে খেলা সব সময়ই কঠিন। এই চ্যালেঞ্জ আমাদের গ্রহণ করতে হবে এবং তা উপভোগ করতে হবে। যেকোনো দলের ঘরের মাঠে খেলা কঠিন। তবে আমরা এমন ম্যাচের জন্যই অপেক্ষা করি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আপনি সেরাদের বিপক্ষে খেলতে চান। আর তারা যখন নিজেদের কন্ডিশনে খেলে, তখনই আপনার প্রকৃত পরীক্ষা হয়। তাই আমরা সিরিজটির অপেক্ষায় আছি। এটি আমাদের জন্য রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ১-১ ব্যবধানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজ ড্র করে ভারত সফরে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর আগে নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তার ওপর উপমহাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্যকে নিজের অন্যতম শক্তি মনে করেন হোপ।
‘আমি সব সময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আর এর অন্যতম বিষয় হলো মানিয়ে নিতে পারা। ভিন্ন কন্ডিশন ও ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মানিয়ে নিতে হয়। সব সময় সবকিছু আপনার পক্ষে যাবে না। আমরা জানি, এটি পেশাদার খেলা। প্রতিটি দিন আপনার দিন হবে না। তবে রান করার সর্বোচ্চ সুযোগ তৈরি করতে আমি খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি,’ বলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক।
ভারতের কন্ডিশনে ব্যাটিংয়ের ধরনও বদলাতে হয় বলে মনে করেন হোপ, ‘এখানে ভারতে আপনাকে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা এমনকি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে খেলার চেয়ে ভিন্নভাবে খেলতে হবে।’
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হবে ২৭ সেপ্টেম্বর তিরুবনন্তপুরমে। দ্বিতীয় ওয়ানডে ৩০ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটিতে এবং তৃতীয় ম্যাচ ৩ অক্টোবর নিউ চণ্ডীগড়ে। এরপর দুই দল পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে। প্রথম টি-টোয়েন্টি ৬ অক্টোবর লক্ষ্ণৌতে, দ্বিতীয়টি ৯ অক্টোবর রাঁচিতে, তৃতীয়টি ১১ অক্টোবর ইন্দোরে, চতুর্থটি ১৪ অক্টোবর হায়দরাবাদে এবং শেষ ম্যাচ ১৭ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হবে।

