দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার তারা নিহত হন বলে জানায় লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রতিবেশী দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের একটি শান্তি কাঠামোয় সম্মত হওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমনটি বলা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ তারা রাতভর হিজবুল্লাহর বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার জবাবেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলার ‘উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে’।
শান্তি কাঠামোর শর্ত অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া এবং লেবাননের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ না নেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনারা অধিকৃত দক্ষিণ লেবাননেই অবস্থান করবে। তবে হিজবুল্লাহ এই শর্তগুলোকে ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের আনসার গ্রামে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া দেইর আল জাহরানি গ্রামে আরেকটি হামলায় আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। আনসারে নিহত সাতজনের মধ্যে তিন শিশু এবং দুই নারী রয়েছেন। এনএনএ আরও জানিয়েছে, এসব হামলায় ১৯ জন আহত হয়েছেন।
গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই দফার সংঘর্ষে লেবাননে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। তারা জানায়, হিজবুল্লাহর হামলায় তিন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী হিজবুল্লাহর সেই সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে যেখান থেকে আক্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা জানতে পারে, হিজবুল্লাহ উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেই সামরিক আস্তানায় বেসামরিক নাগরিকদের অবস্থান করিয়েছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, আনসারে হিজবুল্লাহর অভিজাত ‘রাদওয়ান ফোর্সে’র একটি প্রধান সদরদপ্তরে হামলা চালিয়ে তারা এই বাহিনীর কমান্ডার আলি সামির আল-হাজ হাসানসহ আরও কয়েকজনকে হত্যা করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় কমান্ডার হাসানের পরিবারও সেই সামরিক সদরদপ্তরের ভেতরে তার সঙ্গেই ছিল এবং দাবি অনুযায়ী, তারা ওই হামলায় হতাহত হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ওই পরিবারটি হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল না।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, নিহত সাধারণ মানুষ ও শিশুরা কোনোভাবেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না।
হিজবুল্লাহর মিত্র ও লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এক বিবৃতিতে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন।
তিনি মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই তারা যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা নেন।
এ বছরের শুরুর দিকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের একটি বিশাল এলাকা দখল করে নেয়। ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের দেশের উত্তরাঞ্চলকে পুনরায় হামলার হাত থেকে রক্ষা করতে তারা সেখানে সেনা মোতায়েন রাখবে।
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবানন সফরকালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, হিজবুল্লাহ পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো থেকে সরে আসবে না।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে ইসরায়েলের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি চুক্তির শর্তাবলির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বিবৃতিতে বলেছেন, এসব হামলা একটি ‘স্পষ্ট বার্তা’, যা মূলত শান্তি আলোচনা এবং চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যেই চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে বলেন, এসব হামলা আলোচনাকে আরও ‘সংহত ও জোরালো’ করবে।

