তেহরানের রাস্তায় প্রকাশ্যে ইরানের শীর্ষ নেতারা, দেখা যায়নি খামেনিকে

ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে গত এক মাস ধরে ধারাবাহিক গুপ্তহত্যা চেষ্টা চলার পরও ভীত নন দেশটির নেতারা।

জনসমর্থন ও জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ দিতেই রাজধানী তেহরানের রাস্তায় প্রকাশ্যে হেঁটে বেড়াতে দেখা গেছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।

আজ শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসে এ তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে কয়েকশ মানুষের সঙ্গে দেখা গেছে প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেলফি তুলছেন, হাত মেলাচ্ছেন ও কথা বলছেন।

তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিড়ের মধ্যে কেউ কেউ ইরানের নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রকাশ করেন। অনেকে বোমা হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

রয়টার্স জানায়, প্রতি রাতে তেহরানের বিভিন্ন চত্বরে সমাবেশের ডাক দেওয়া হচ্ছে। এই সমাবেশে যেমন সরকারের একনিষ্ঠ সমর্থক রয়েছে, তেমনি আছেন সরকারি কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ডন’ এর বিশ্লেষক ওমিদ মেমারিয়ান বলেন, ‘তীব্র চাপের মুখে থেকেও সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এ কৌশল নিয়েছে ইরানের নেতারা।’

তবে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর প্রধান হাদি ঘায়েমি বলছেন ভিন্ন কথা।

তার মতে, নেতাদের এই জনসমক্ষে আসা আসলে এক ধরনের ‘মানবঢাল’ হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে থাকলে তাদের ওপর হামলা চালানো কঠিন হবে। কারণ এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটবে এবং বিশ্বজুড়ে ইরানের প্রতি সহানুভূতি তৈরি হবে।’

প্রতিবেদনে, ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যে বিরাজমান আতঙ্কের বিষয়টিও উঠে আসে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা এবং অন্যদিকে এই যুদ্ধের মধ্যে কয়েকজন বন্দির ফাঁসি কার্যকর করায় অনেক মানুষ আতঙ্গে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

Related Articles

Latest Posts