তিনি ছিলেন ‘সিনেমাপাড়ার ভদ্রমানুষ’

ঢাকাই সিনেমার সোনালি দিনের জনপ্রিয় নায়ক বুলবুল আহমেদের জন্মদিন আজ। অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেতার ‘দেবদাস’, ‘মহানায়ক’, ‘ওয়াদা’, ‘আরাধনা’সহ বেশকিছু সিনেমার আবেদন এখনো রয়ে গেছে। তার সিনেমার অনেক গান আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

বিশেষ করে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘দেবদাস’ অবলম্বনে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান বুলবুল আহমেদ। চরিত্রটির সঙ্গে এমনভাবে মিশে গিয়েছিলেন যে অনেকেই তাকে ‘দেবদাস’ নামেই ডাকতেন।

বুলবুল আহমেদ ও ববিতা অভিনীত ‘ওয়াদা’ সিনেমার একটি গানও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। গানটি হলো ‘সামাল সামাল সামাল সাথী ধীরে ধীরে চল রে’। ‘যদি বউ সাজো গো’ গানটিও ছিল সিনেমাটির আরেকটি জনপ্রিয় গান।

‘দেবদাস’খ্যাত এই অভিনেতার জন্মবার্ষিকী আজ ৪ সেপ্টেম্বর। বুলবুল আহমেদকে স্মরণ করে ববিতা বলেন, ‘বুলবুল আহমেদ নেই ভাবতেই খারাপ লাগে। তিনি অতি বেশি ভদ্রমানুষ ছিলেন। ক্যামেরার সামনে গেলে তিনি যেন অন্য মানুষ হয়ে যেতেন। অসাধারণ অভিনয় করতেন। জীবনভর তিনি অভিনয় করে গেছেন।’

‘মহানায়ক’ সিনেমার পর অনেকেই বুলবুল আহমেদকে ‘মহানায়ক’ বলে ডাকতেন। এই সিনেমার গানগুলোর মধ্যে ‘আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’ অন্যতম। ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে, একটি কথাই শুধু জেনেছি আমি—পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’ গানটিও ‘মহানায়ক’ সিনেমায় বুলবুল আহমেদের অভিনীত। বছরের পর বছর ধরে গানটির আবেদন রয়ে গেছে।

বুলবুল আহমেদ ও কবরী অভিনীত ‘আরাধনা’ সিনেমার ‘আমি তোমার বধূ তুমি আমার স্বামী’ গানটিও কোটি মানুষের মন জয় করে নেয়। ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’ গানটিতেও বুলবুল আহমেদের অভিনয় দর্শকের মনে জায়গা করে নেয়।

শুধু সিনেমা নয়, অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ। চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন তিনি।

বুলবুল আহমেদকে স্মরণ করে রোজিনা বলেন, ‘বুলবুল আহমেদ ভাই ভীষণ ভালো মানুষ ছিলেন। তার বড় গুণ ছিল, বড় হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। সিনেমাপাড়ায় ভদ্রমানুষ হিসেবে তার ব্যাপক সুনাম ছিল।’

অভিনেত্রী ডলি জহুর বলেন, ‘বুলবুল আহমেদ অনেক ভালো একজন মানুষ ছিলেন। নাটকে তার সঙ্গে অভিনয় করে সহশিল্পী হিসেবে তৃপ্তি পেয়েছি। একজন শিল্পী যখন সহশিল্পী হিসেবে ভালো মানুষ পায় তখন কাজটা আরও দ্রুত হয়, ভালো হয়।’

সাড়া জাগানো ধারাবাহিক নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’তে কাজ করার সময় বুলবুল আহমেদের সঙ্গে অসংখ্য স্মৃতি জমে আছে বলেও জানান ডলি জহুর।

১৯৪১ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার আগামসিহ লেনে বুলবুল আহমেদের জন্ম। ২০১০ সালে ১৫ জুলাই তিনি মারা যান।

Related Articles

Latest Posts