বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে বিতর্ক। কারণ, শাস্তি পুনর্বিবেচনার জন্য সরাসরি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ফোনালাপের পরই ফিফা বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে।
এই ঘটনায় বিশ্ব ফুটবলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ফিফা। তবে সোমবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ইনফান্তিনো। তিনি স্বীকার করেছেন, ট্রাম্প তার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে দাবি করেছেন, ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং তাদের সিদ্ধান্তে তিনি কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।
ইনফান্তিনো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের কথোপকথনের সময় আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানিয়েছিলাম যে, বিষয়টি ফিফার স্বাধীন বিচারিক সংস্থার অধীনে আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নেবে। ফিফার ব্যবস্থা এভাবেই পরিচালিত হয় এবং এই নীতিই আমি সবসময় সমুন্নত রাখব।’
তবে ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বালোগানের শাস্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ তিনিই করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘সে (বালোগান) কোনো ভুল করেনি। সে আমাদের সেরা খেলোয়াড়। আপনার সেরা খেলোয়াড়কে যদি বলা হয়, “তুমি খেলতে পারবে না”, তাহলে সেটা খুবই অন্যায্য।’
এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আমি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলাম। যদি এমন একজন শীর্ষ খেলোয়াড়কে খেলতে দেওয়া না হতো, তাহলে বিশ্বকাপের গায়ে বড় ধরনের দাগ লেগে যেত। আমি সেই অনুভূতির কথাই জানিয়েছিলাম। আমার মনে হয়, তারা সত্যিই অসাধারণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
বিতর্কের সূত্রপাত শেষ বত্রিশের ম্যাচে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী, এতে পরের ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তার খেলার সুযোগ থাকার কথা নয়।
এদিকে ট্রাম্প বালোগানকে লাল কার্ড দেখানো ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউসের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও তার অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

